গৃহবধুকে নির্যাতনের ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর দাবিসহ প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, কক্সবাজারের ঘোনারপাড়া নামক স্থানে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিওকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পরের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৮ এপ্রিল 'আদিবা ইসলাম সাজু' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "আজ রাতে রাজধানীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করলো সন্ত্রাসীরা। বতর্মান দেশে পাকিস্তানের কায়দায় নির্যাতন চলছে..."। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর নয়। কক্সবাজারের ঘোনারপাড়া নামক স্থানে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিওকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পরের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে।
ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে 'Farjin Sultana' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, ওই পোস্টে ভিডিওটির স্থান বা ঘটনাটির সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
আরো সার্চ করে ওই একই দিনে ওই একাউন্টটি থেকে করা আরেকটি পোস্টে ভিডিওটিতে দেখানো আলোচ্য ভিডিওটির মেয়েটির আহত অবস্থার কয়েকটি স্থিরচিত্র দেখতে পাওয়া যায়। পোস্টটি ক্যাপশনে বলা হয়, "Meye ti k sosur barite mere fele rakce alakar manush ra take bacaice tovuo Tara sobai galigalaj korce er protibad koren shobai" (মেয়েটিকে শ্বশুরবাড়িতে মেরে ফেলে রাখসে। এলাকার মানুষরা তাকে বাচাইসে। তবুও, তারা সবাই গালিগালাজ করছে। সবাই প্রতিবাদ করুন।)। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও, আলোচ্য ভিডিওটিকে এনসিপি নেত্রীকে বিএনপি নেতাকর্মীরা ধর্ষণ করেছে বলে প্রচার করা হলে এই পোস্টটিকে শেয়ার করে উক্ত ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়, এতে বলা হয় দাবিটি সঠিক নয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর নয় বরং কক্সবাজারের ঘোনারপাড়া নামক স্থানে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের সময়ে ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সুতরাং কক্সবাজারে গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিওকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পরের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




