মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার ভিডিও বলে গেমসের ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং ওয়ার থান্ডার নামে একটি গেমিং প্ল্যাটফর্মে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানার সময়ে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১ মার্চ 'Moshiur Rahman' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "মা'র্কি'ন যুদ্ধজাহাজে আ'ঘা'ত হানল ই'রা'নের ক্ষেপণাস্ত্র।" ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওটি কোনো বাস্তব ভিডিও নয়। প্রকৃতপক্ষে ওয়ার থান্ডার নামে একটি গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে 'Duzyatan 3.0' নামে একটি ফেসবুক পেজে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওত্র ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "Warship vs Cruise Missile Strike Operation"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে ওই ফেসবুক পেজটি পর্যবেক্ষণ করে পেজটির ইন্ট্রোতে লেখা থাকতে দেখা যায়, "This page showcases dynamic aircraft flyovers, precision tactical maneuvers, fast-paced dogfights, and immersive aerial action — all created within the War Thunder gaming platform. The content is purely virtual and intended for entertainment purposes only (এই ফেসবুক পেজে গতিশীল বিমান ওড়ানো, নির্ভুল কৌশল, দ্রুতগতির ডগফাইট এবং নিমজ্জিত আকাশযান দেখানো হয়েছে — এই সবই ওয়ার থান্ডার গেমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে তৈরি। কন্টেন্টটি সম্পূর্ণ ভার্চুয়াল এবং শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে তৈরি।)"। পেজের পরিচিতির নিচে ভিডিও নির্মাণকারীর একটি ইমেল একাউন্টের নাম দেখতে পাওয়া যায় যা থেকে নির্মাণকারী বাংলাদেশী বলে ধারণা করা হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও পেজটি পর্যবেক্ষণ করে একই ধরণের আরো বেশকিছু ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয়। ইরানের হামলায় আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার যে ভিডিও ফুটেজটি প্রচারিত হচ্ছে তা একটি গেম ভিডিও।
সুতরাং গেমসের ভিডিওকে ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




