‘ক্ষেতে পানির মধ্যে খাবার খাচ্ছেন কৃষক’ ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয়। এটি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তৈরি স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।

মে মাসের শুরুতেই বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের ঘামে-ভেজা ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মজুরির ঊর্ধ্বমুখী চাপ আর শ্রমিক সংকটে কোণঠাসা হয়ে অনেক কৃষক পরিবারের সদস্যদের মাঠে নামিয়েছেন। কাটা ধান শুকানোর সুযোগ না পেয়ে থেমে-থেমে বৃষ্টির মধ্যে চাষিরা চরম উদ্বেগে দিন পার করছেন।
এরই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদন পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একজন কৃষক প্রবল ঝড়ের মধ্যে ধান খেতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে খাবার খাচ্ছেন। তার চারপাশে বাতাসের তীব্রতা এবং পানির ঝাপটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তিনি ধানের গোছার উপর একটি থালা রেখে সেখান থেকে ভাত খাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝড়ের কবল থেকে নিজের ধান বাঁচাতে কৃষক ক্ষেতের পানির মধ্যেই দাঁড়িয়েই খাবার খাচ্ছেন। ভিডিওটি নিজেদের ফেসবুকে প্রচার করেছে দৈনিক ইনকিলাব (২), নাগরিক প্রতিদিন ও ফ্রিডম বাংলা নিউজ।
গত ৩ মে ‘The Daily Inqilab’ পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “ঝড়ে ধান বাঁচাতে কৃষকের যুদ্ধ কি এমন? আহা সোনালী ধান, মোটা ভাত! ভাইরাল ভিডিও দেখে আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
নাগরিক প্রতিদিন ও ফ্রিডম বাংলা নিউজের পোস্টের স্ক্রিনশট কোলাজ দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার দৃশ্য নয়। এটি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের অভিনয়ের দৃশ্য এবং ভিডিওটি তিনি তার ফেসবুক হ্যান্ডেলের কনটেন্ট হিসেবে তৈরি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে ফেসবুকে 'MD Liton Mia' নামের একটি হ্যান্ডেলে গত ২ মে প্রকাশিত আলোচ্য ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'তুফান এর মাজে ধান কাটরাম (কাটলাম)'। স্ক্রিনশট দেখুন--
পরবর্তীতে তার ফেসবুক হ্যান্ডেলটিতে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সমজাতীয় (পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটা) ভিডিও পাওয়া যায়। 'ডিজিটাল ক্রিয়েটর' এই হ্যান্ডেলটিতে ধান সহ বিভিন্ন কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ভিডিও পাওয়া যায়। দেখুন--
এতে প্রতীয়মান হয় তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং ভিডিওটি তিনি অভিনয়ের দৃশ্য হিসেবে তৈরি করেছেন।
অর্থাৎ ভিডিওটি অভিনয়ের মাধ্যমে তৈরি করা বা স্ক্রিপ্টেড।
সুতরাং গণমাধ্যমে অভিনয়ের একটি দৃশ্যকে বাস্তব ঘটনার ভিডিও বলে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।




