এআই ভিডিওর স্ক্রিনশট দিয়ে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরুর দাবি প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিগুলো এআই তৈরি একটি ভিডিও থেকে নেওয়া। ভিডিওটি SynthID টুলে যাচাই করলে টুলটি এতে ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দুইটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদৃশ পোশাক গায়ে কয়েকজন সেনাসদস্য সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ফায়ারিং মহড়া বা প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যাচ্ছে। এরকম একটি পোস্ট দেখুন এখানে।
গত ২৬ আগস্ট 'Showkat Hossain khan' নামক একটি পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, 'হঠাৎ করে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ শুরু হলো কেন? কিছু কি আঁচ করতে পারছেন?' পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ছবি দুইটি বাস্তব নয় মূলত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে ছবি দুইটি পোস্ট করা হয়েছে। মূল ভিডিওটি গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলে ছবিটি যাচাই করলে 'গুগলের এআই মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং ভিডিওতে SynthID ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে।
ছবি দুইটিতে দেখা যাচ্ছে এটি ‘Gm Sabbir4.0’ নামক ফেসবুক পেজের একটি পোস্টের স্ক্রিনশট। এছাড়াও পোস্টে 'AI Content' লেবেল যুক্ত করা আছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সার্চ করে ‘Gm Sabbir4.0’ পেজে প্রকাশিত পোস্টটি (ভিডিও) পাওয়া যায়। দেখুন --
তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধতা, সহজলভ্য হওয়ায় এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের ভিডিও জেনারেশন টুল 'Veo' বা ভিও'য়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিও হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও, ইমেজ-টু-ভিডিও তৈরি করার টুল এবং সর্বশেষ সংস্করণ। Veo-3 (ভিও-৩) ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কনটেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি ভিডিওতে 'SynthID' ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে। দেখুন --
অর্থাৎ এআই দ্বারা তৈরি ভিডিওর স্ক্রিনশট প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই তৈরি কনটেন্ট বাস্তব ঘটনার বলে প্রচার করা হচ্ছে।




