খালেদা জিয়াকে নিয়ে যমুনা টিভির নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, যমুনা টেলিভিশনের ফটোকার্ড ফরম্যাট সম্পাদনা করে ভুয়া মন্তব্য জুড়ে দিয়ে আলোচ্য ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে বলা হচ্ছে, বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম যমুনা টেলিভিশনে "স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, নাগরিকের জানমালের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো দল এবং শেখ হাসিনার থেকে ভালো শাসক আর নেই- শীর্ষক মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়া" শিরোনামে একটি সংবাদের ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৫শে নভেম্বর 'Sheikh Tulip Siddiq' নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচ্য ফটোকার্ডটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, "আমি এজন্য বেগম খালেদা জিয়াকে সম্মান শ্রদ্ধা ভালোবাসি। দল ভিন্ন হলেও তার মুখে কখনো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সমালোচনা করতে দেখিনি। ২.৫০ বার ক্ষমতায় থাকা কালীন ও।... তার সুস্বাস্ব্য দির্ঘায়ু কামনা করছি ..."। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ টিউলিপ সিদ্দিকের নামে খোলা হলেও অ্যাকাউন্টটি তাঁর সাথে সম্পর্কিত নয়।
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ফটোকার্ডটি সম্পাদিত। বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের ফটোকার্ড ফরম্যাট সম্পাদনা করে খালেদা জিয়ার নামে একটি ভুয়া মন্তব্য জুড়ে দিয়ে আলোচ্য ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সার্চ করে দাবি অনুযায়ী শিরোনামের কোনো ফটোকার্ড যমুনা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফটোকার্ডটিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে গণমাধ্যমটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অন্যান্য ফটোকার্ডের সাথে কয়েকটি অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
আলোচ্য প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে তারিখ উল্লেখ করা হয়নি এবং লেখার ফন্টের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আলোচ্য ফটোকার্ড (বামে) ও গণমাধ্যমটির ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ডের (ডানে) পাশাপাশি তুলনা দেখুন--
মূলত গত রোববার (২৩ নভেম্বর) শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে এরপর থেকে এ সংক্রান্ত অধিকাংশ সংবাদে যমুনা টেলিভিশন তাদের ফটোকার্ডে আলোচ্য ছবিটিই ব্যবহার করেছে।
যমুনা টেলিভিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ২৩ তারিখের পর থেকে আলোচ্য মন্তব্যযুক্ত ফটোকার্ডটি প্রচারের সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার আলোচ্য ছবিটি সহ অন্তত দুইটি (১, ২) ফটোকার্ড পাওয়া যায়। কোলাজ দেখুন--
অর্থাৎ, আলোচ্য ফটোকার্ডটি টেলিভিশনের ফটোকার্ড ফরম্যাট ব্যবহার করে সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য সার্চ করে যমুনা টেলিভিশন সহ কোনো গণমাধ্যমের কোনো সংস্করণেই খালেদা জিয়ার এমন মন্তব্যের আলোচ্য দাবি সংক্রান্ত কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সুতরাং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যমুনা টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ডকে বিকৃত করে ভুয়া মন্তব্য যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।




