মিশরের ছিনতাইয়ের দৃশ্যকে বাংলাদেশের বলে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, মিশরের কায়রো শহরের মাতারিয়া নামক এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটার সময়ে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছিনতাই চেষ্টার ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, দেশে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২২ আগস্ট 'প্রতিদিনের নোয়াখালী' নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "দিন দুপুরে প্রকাশ্যে ছিন্তাই চাকু দিয়ে হামলা কোন দেশে বসবাস করি ভাই/"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওতে দেখানো ছিনতাইয়ের ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেনি। বরং এটি মিশরের কায়রো শহরের আল মাতারিয়া নামক স্থানে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে মিশর থেকে পরিচালিত গণমাধ্যম ইজিপ্ট টেলিগ্রাফের ওয়েবসাইটে গত ১৫ আগস্ট "بيان عاجل من الداخلية بشأن واقعة لص الهواتف بالمطرية (মাতারিয়ায় ফোন চুরির ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিবৃতি-- গুগলের সাহায্যে অনূদিত)" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি স্থিরচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষেবাগুলি কায়রোতে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে গ্রেপ্তারের বিবরণ প্রকাশ করেছে, যে একজন নাগরিকের ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ধারালো জিনিস দিয়ে হুমকি দিয়ে চুরি করার চেষ্টা করেছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে কায়রোর মাতারিয়ায় একজন মোটরসাইকেল আরোহী একজন ব্যক্তির কাছ থেকে মোবাইল ফোন চুরি করার চেষ্টা করছে। চোর ব্যর্থ হলে, সে তাকে ধারালো যন্ত্র দিয়ে হুমকি দেয়। (অনূদিত)"। স্ক্রিনশট দেখুন--
আরো সার্চ করে মিশর থেকে পরিচালিত আরেকটি গণমাধ্যম Aladadalawalnews এর ওয়েবসাইটে গত ১৫ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও জানা যায় একই তথ্য। স্ক্রিনশত দেখুন--
এছাড়াও, মিশর থেকে পরিচালিত গণমাধ্যম vetogate, almsryalaan.com, msr2030 এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে একই তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ছিনতাইয়ের আলোচ্য ভিডিওটি বাংলাদেশে নয় বরং মিশরে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার।
সুতরাং মিশরের ছিনতাইয়ের ভিডিওকে বাংলাদেশের ঘটনার বলে দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।