ঠাকুরগাঁওয়ের ভিডিও দিয়ে মাগুরায় ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ বলে প্রচার
ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের কোনো ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার নয়; প্রকৃতপক্ষে এটি ঠাকুরগাঁওয়ে তান্ত্রিক কর্তৃক এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনার ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ঈদের ছুটি শেষে মাগুরা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ৪ জুন ‘MD Zarif’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “মাগুরায় ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্রী কিন্তু এবার ঢাকায় যাবার পথে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণ করে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দিয়েছে! দেশে ধর্ষণের কোন বিচার না করায় বতর্মান আরো বেশি ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে নারী। ভিডিওটি শেয়ার করে দিয়ে দেশবাসীকে দেখার সুযোগ করে দিন।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের কোনো ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার নয়; বরং এটি ঠাকুরগাঁওয়ে তান্ত্রিক কর্তৃক এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনার ভিডিও।
ভাইরাল ভিডিওটির রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘সময় সংবাদ ঠাকুরগাঁও’ নামক ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। যেই ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম থেকে এক নারীর দগ্ধ ম'র'দেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। স্ক্রিনশট দেখুন--
কি আলোচ্য তথ্যের ভিত্তিতে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “হরিপুরে দগ্ধ নারীর মরদেহ উদ্ধার, আতঙ্কিত এলাকাবাসী” শিরোনামে ‘দৈনিক কুমিল্লার প্রতিচ্ছবি’ নামক পত্রিকার ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রাম থেকে এক নারীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত নারী মোছা. নাসিমা (৩৫)। তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বাগানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী। স্ক্রিনশট দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “স্বর্ণের কলসের লোভে নাসিমাকে হত্যা করে তান্ত্রিক, রহস্য উদঘাটন” শিরোনামে ‘একুশে টিভির’ ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকায় জনমানবহীন স্থান থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। স্বর্ণের কলসি ও পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাসিমা আক্তার নামে ৩৬ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে হত্যা করে সামশুল হক নামে স্থানীয় এক তান্ত্রিক। মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে আটটায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব কথা জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি ঢাবির কোনো ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যার ঘটনার নয়; প্রকৃতপক্ষে, এটি ঠাকুরগাঁওয়ে তান্ত্রিক কর্তৃক এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনার ভিডিও।
সুতরাং ঠাকুরগাঁওয়ে তান্ত্রিক কর্তৃক এক গৃহবধূকে হত্যার ঘটনার ভিডিও দিয়ে ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




