ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি কি মাওলানা মামুনুল হকের?

সিলেটের একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার সময় মামুনুল হকের ছবিটি তোলা হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি সাদা রঙয়ের একটি টয়োটা প্রাডো গাড়িতে সামনে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে কোথাও যাচ্ছেন। ছবিটি ফেসবুকে অনেকে শেয়ার করে গাড়িটি মাওলানা মামুনুল হকের বলে দাবি করছেন।

এর সূত্র ধরে ডিবিসি নিউজ৭১ নামে একটি অনলাইন পোর্টাল 'মামুনুলের দেড় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি : ফেসবুকে বিতর্কের ঝড় যে কারনে' শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

পোস্টটি আর্কাইভ করা আছে এখানে

আর্কাইভ করা এরকম কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এখানে

ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে যে এই গাড়িটি মাওলানা মামুনুল হকের নয়।
গাড়িটির সাথে মাওলানা মামুনুল হকের ছবিটি মূলত সিলেটে তোলা। তিনি গত ২ মার্চ সিলেটের একটি ওয়াজ মাহফিলে গেলে সেখানে ছবিটি তোলা হয়। সিলেটের ছাতকের এক ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত এই গাড়িতে করে মামুনুল হক মাহফিলে যোগদান করেন।
ডিবিসি নিউজ৭১ পোর্টালটি গাড়িটির সাথে মামুনুল হকের মালিকানা জুড়ে দেয়ার পেছনে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে 'কার হাব বিডি' নামক একটি ফেসবুক পেজকে যেটিকে ডিবিসি নিউজ৭১ গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করেছে।
ফেসবুকে প্রথম ছবিটি ছড়ায় মূলত 'কার হাব বিডি' নামক ফেসবুক পেজটি থেকেই। 'কার হাব বিডি' পেজের অ্যাবাউট সেকশন অনুযায়ী পেজটি মূলত বাংলাদেশের কারপ্রেমীদের একটি খোলামেলা অনলাইন প্লাটফর্ম যেখানে প্রাইভেটকার অথবা অটোমোবাইল সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, গাড়ির দাম, ছবি, রিভিউ, টিপস ইত্যাদি পোস্ট করা হয়। ডিবিসি নিউজ৭১-এ যেভাবে 'কার হাব বিডি'কে গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে 'কার হাব বিডি' সেরকম কোন প্রতিষ্ঠান নয়।
দ্বিতীয়ত: 'কার হাব বিডি' আমিরুল ইসলাম তামিম নামক ব্যক্তির কার্টেসীতে ছবিটি পোস্ট করলেও সেখানে গাড়িটি মামুনুল হকের বলে উল্লেখ করা হয়নি। পোস্টটির ক্যাপশন ছিল এরকম:
''মাওলানা মামুনুল হক এবং Land Cruiser Prado!
দাম: ১ কোটি টাকা +-
📷Amirul Islam Tamim''

আর্কাইভ দেখুন এখানে

তাছাড়া ডিবিসি নিউজ৭১-এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর 'কার হাব বিডি' তাদের ফেসবুক পেজ থেকে পৃথক দুটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা গাড়িটি মামুনুল হকের বলে দাবি করেনি। এছাড়া তারা পরিস্কারভাবে জানিয়েছে যে তারা গাড়ি বিক্রিকারী কোন প্রতিষ্ঠান নয় এবং গাড়িটির দাম ১ কোটি ৩০ লাখ বলেও তারা কোথাও উল্লেখ করেনি।

পোস্ট দুটি আর্কাইভ করা আছে এখানে এখানে

বুম বালাদেশ গাড়ির ছবিতে পাওয়া মোবাইল নাম্বারে
যোগাযোগ
করলে দেখা যায় নাম্বারটি সাইফ রহমান নামে সিলেটের একজন তরুণ ব্যবসায়ীর। তিনি জানান, মাওলানা মামুনুল হকের গাড়িতে বসা অবস্থার ছবিটি তিনি নিজে তুলেছেন। গত ২ মার্চ সিলেটের গওহরপুরের শাহ সুলতান সমাজ কল্যাণ পরিষদের মাহফিলে যাওয়ার সময় সিলেট শহর সংলগ্ন শাহজালাল ব্রিজের উপর তিনি কয়েকটি ছবি তোলেন। সাইফ রহমান বুম বাংলাদেশ'কে ভাইরাল হওয়া ছবিটিসহ তার মোবাইলে তোলা আরো কয়েকটি ছবি পাঠান।
তিনি জানান, গওহরপুরের মাহফিলে যাওয়ার সময় মাওলানা মামুনুল হক সুনামগঞ্জের ছাতকের এখলাস খান নামক এক ব্যক্তির গাড়িতে ছিলেন।



ফেসবুকে ছড়ানো ছবিটির রেজুলেশন কম থাকায় গাড়ির নম্বর প্লেটে লেখা সবগুলো টেক্সট পাঠযোগ্য ছিলো না। সাইফ রহমানের দেয়া উন্নত রেজুলেশনের ছবিতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, নম্বর প্লেটে "ঢাকা ৭৬৪/অ" এর নিচে Faishal ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা।
সাধারণত বাংলাদেশে কোন গাড়ি নতুন কেনার পর বিআরটিএ থেকে নম্বরপ্লেট পাওয়ার আগ পর্যন্ত বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত একটি প্লেট ব্যবহার করা হয়। এই গাড়িটির ক্ষেত্রেও এরকমই হয়েছে যার ফলে নম্বরপ্লেটে এখনো 'Faishal International' লেখা রয়েছে।
বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য বুম বাংলাদেশ 'Faishal International' নামে ঢাকার একটি গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা অনলাইনে খুঁজে পায়। প্রতিষ্ঠানটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভি করেন রিপন বেপারী, যিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক।
তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যবহৃত গাড়ি ক্রয় করে আবার বিক্রি করে থাকে। তিনি আরও জানান, "ঢাকা ৭৬৪/অ" নম্বর প্লেটের টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো গাড়িটি সুনামগঞ্জের ছাতকের এখলাস খান নামক এক ব্যক্তির কাছে গত ফেব্রুয়ারীতে বিক্রি করেছেন। বিআরটিএ থেকে গাড়িটির নম্বর প্লেট পাওয়ার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে 'Faishal International' এর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান রিপন বেপারি।
গাড়িটি কত দামে বিক্রি করেছেন জানতে চাইলে তিনি হুবহু দাম বলতে রাজি হননি। তবে বলেছেন, "কোটি টাকার কিছু বেশি আছে।"
অর্থাৎ, গাড়িটি যে মামুনুল হকের নয়, বরং এখলাস খান নামে সুনামগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর।
Claim Review :   ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ল্যান্ড ক্রুজারের মালিক মাওলানা মামুনুল হক
Claimed By :  Facebook posts
Fact Check :  False
Show Full Article
Next Story