জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় শিশুকে পুলিশের হেনস্তার বলে ভিন্ন ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ডান্ডি নামে একটি নেশাদ্রব্য কাছে থাকা এবং এনসিপি নেতাদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করায় শিশুটিকে আটকে এই আচরণ করে পুলিশ।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের একটি শিশুকে চর-থাপ্পড় দেওয়ার একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, জয় বাংলা শ্লোগান দেওয়ায় শিশুটিকে হেনস্তা করেছে পুলিশ। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৪ জুন 'Alamin Babu' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "কত সাহস এই পাকিস্তানের মাটিতে শিশুটি জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছে! 😞"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--

ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি ভিত্তিহীন। পুলিশ সদস্যদের শিশুকে হেনস্তা করার সাথে "জয় বাংলা" বলে স্লোগান দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই পদযাত্রা চলাকালে এনসিপি নেতৃবৃন্দের বেশি কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করা এবং পরবর্তীতে শিশুটির হাতে ডান্ডি নামক একটি নেশাদ্রব্য পাওয়া যাওয়ায় তাকে আটকে চড়-থাপ্পড় দেন পুলিশ সদস্যরা।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম 'ATN News' -এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই আপলোড করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। তবে, ওই ভিডিওটি জুলাই মাসে ধারণ করা হয়েছে এটা জানা গেলেও শিশুটির সাথে পুলিশের এরকম আচরণের কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ইউটিউব ভিডিওটি দেখুন--
আরো সার্চ করে অনলাইন পোর্টাল জাগোনিউজে ২০২৫ সালের ১৮ জুলাই "চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওসি-এসআইয়ের শিশুকে বল প্রয়োগের ভিডিও ভাইরাল" শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির মত দৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মতিউর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাইয়ের শিশুকে বল প্রয়োগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভাইরাল হয়েছে। ২৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, এক শিশুর হাত ধরে আছেন সদর থানার ওসি মতিউর রহমান। শিশুটির গায়ে থাকা টি-শার্টের গলার অংশ ধরে মারধর করছেন সদর থানার এসআই আব্দুল হাই। এক পর্যায়ে মাথা ও চুল ধরে পেছনের দিকে বল প্রয়োগ করছেন তিনি। পুরো ভিডিওতেই শিশুটি কান্নারত অবস্থায় ছিল। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি শিশুটির। ওসি এসআইসহ ৩-৪ জন পুলিশ সদস্য মিলে শিশুটিকে নির্যাতন করেন।...
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই আব্দুল হাই বলেন, শিশুটি আমার পরিচিতি তাই এমন করা হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানতে হলে আপনাকে ওসি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
সদর থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, ঘটনাটি গত ৬ জুলাই চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রা দিনের ঘটনা এটি। ওই শিশু এনসিপির নেতৃবৃন্দের কাছাকাছি চলে যায়। জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে তার কাছে পাওয়া যায় ড্যান্ডি নামের মাদক। তবে পুলিশের বল প্রয়োগের কথা অস্বীকার করেন তিনি।
জেলা পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম বলেন, সে শিশু হলেও নেশাগ্রস্ত। তবে তাকে এভাবে নিয়ে দূরে সরানো উচিত হয়নি। পুলিশ আরও ঠান্ডা মাথায় কাজটা করতে পারত। আমরা এর পরে বিষয়গুলো খেয়ালে রাখব।"। স্ক্রিনশট দেখুন--

এছাড়াও, বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন এবং নাগরিক টিভির অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
অর্থাৎ আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওর পুলিশ সদস্যের ওই শিশুটিকে হেনস্তা করার সাথে "জয় বাংলা" বলে স্লোগান দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। ২০২৫ সালের ৬ জুলাই পদযাত্রা চলাকালে এনসিপি নেতৃবৃন্দের বেশি কাছে যাওয়ার চেষ্টা করা এবং পরবর্তীতে শিশুটির হাতে ডান্ডি নামক একটি নেশাদ্রব্য পাওয়া যাওয়ায় তাকে আটকে চড়-থাপ্পড় দেন পুলিশ সদস্যরা। আলোচ্য ভিডিওটি ওয়িসময়েই ধারণ করা হয়।
সুতরাং ভিন্ন কারণে এক শিশুকে পুলিশ সদস্যের চড় থাপ্পড় দেওয়ার ভিডিওকে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ায় হেনস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




