পেজেশকিয়ানের হিন্দু ধর্মগুরুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করার দাবিটি সত্য নয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, হাত থেকে পড়ে যাওয়া ম্যাগাজিন তোলার জন্য প্রথমে মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পরে ধর্মগুরু সতীশাচার্যকে নিচু হতে দেখা যায়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, একজন হিন্দু ধর্মগুরুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর 'Sumon Hossain' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে আলোচ্য ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "শিয়া ধর্ম আর হিন্দু ধর্ম মিলেমিশে একাকার😜 ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানের হিন্দু ধর্মগুরুর পা ছুঁয়ে প্রনাম! এখন কি বলবে এদেশীয় বাঙ্গু ভারত বিদ্বেষি শিয়া দালালরা?"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ভিডিওতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হাত থেকে পড়ে যাওয়া ম্যাগাজিন তোলার জন্যে প্রথমে নিচু হন। এর ঠিক পরেই ধর্মগুরু সতীশাচার্যকে ম্যাগাজিন তুলতে নিচু হতে দেখা যায়।
ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে 'Aizaz dinho' নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের পোস্টে আলোচ্য ঘটনার ভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের প্রেমেশ্বর ধামের পীঠধীশ্বর হিন্দু ধর্মগুরু জগদ্গুরু স্বামী সতীশাচার্য মহারাজসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। ভিডিওতে প্রথমে মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং একটু পরেই স্বামী সতীশাচার্য মহারাজকে নিচু হতে দেখা যায়। এ থেকে ধারণা করা যায় যে, তাঁরা দুজনেই নিচু হয়ে কিছু একটা তোলার চেষ্টা করছিলেন। এক্স পোস্টটি দেখুন--
আরো সার্চ করে 'Ismat TV' নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে করা একটি পোস্টেও আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটিতে বলা হয়, "পুরোহিতকেও কিছু একটা তুলে নেওয়ার জন্য (পেজেশকিয়ানের পরে) নিচু হতে দেখা যাচ্ছে; গণমাধ্যমগুলোর উচিত অতিথিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিকৃত বয়ান প্রচার না করা" [অনূদিত]। এক্স পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে, কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সেপ্টেম্বর "No, Iranian President Didn’t Touch a Hindu Religious Leader's Feet at BRICS" শিরোনামে প্রকাশিত একটি তথ্য যাচাইকৃত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, 'আচার্য লোকেশ মুনি' নামের এক ব্যবহারকারীর একটি ফেসবুক পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে তিনি ওই অনুষ্ঠানে ইরানি প্রেসিডেন্টের পাশে দাঁড়িয়ে তোলা নিজের ছবি শেয়ার করেছিলেন।
'দ্য কুইন্ট' (The Quint) তাঁর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ইরানি প্রেসিডেন্ট কোনো হিন্দু ধর্মীয় নেতার পা স্পর্শ করেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা। তিনি জানান, তিনি যখন পেজেশকিয়ান তাঁর নিজের সংগঠন 'ওয়ার্ল্ড পিস সেন্টার'-এর ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত 'আহ্বান' (Aahwaan) নামের ম্যাগাজিনটি দেখাচ্ছিলেন, তখন সেটি তাঁর হাত থেকে পড়ে যায়। তিনি বলেন, ভিডিওতে ইরানি প্রেসিডেন্টকে সৌজন্যবশত সেটি তুলে দিতে দেখা গেছে এবং সেটিই দৃশ্যটিই পরবর্তীতে বিভ্রান্তিকর দাবিতে ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে" (অনূদিত)।
অর্থাৎ, ভিডিওতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হিন্দু ধর্মগুরুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেননি। হাত থেকে পড়ে যাওয়া ম্যাগাজিন তোলার জন্যে নিচু হওয়ার সময়ে মাসুদ পেজেশকিয়ানের আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সুতরাং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একজন হিন্দু ধর্মগুরুর পা ছুঁয়ে প্রণাম করার মিথ্যা দাবি প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




