তোফায়েল আহমেদের জানাজার সময়ে সেনাবাহিনীর গাড়িতে হামলার দাবিটি ভুয়া
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, গতবছরের সেপ্টেম্বরে খাগড়াছড়িতে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনের নেতা ক্যুনান চাকমাকে গ্রেফতারের সময়ে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বরিশাল ভোলার সাধারণ মানুষদের বাঁধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে সেনাবাহিনী। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২ জুন 'বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।' নাকে একফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "তোফায়েল আহমেদের জানাজায় বরিশাল ভোলার সাধারণ মানুষদের বাঁ'ধা দিতে গিয়ে, উ'ল্টো সেনাবাহিনীর গাড়িতে হা'ম'লা চা'লিয়েছে সাধারণ মানুষ! দ'খ'লদার সরকার সেনাবাহিনী দিয়ে জা'নাজায় লোকজন আসতে বাঁ'ধা দিচ্ছে! সারাদেশ থেকে হাজার হাজার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী এই মুহূর্তে ভোলায় উপস্থিত হয়েছে।।"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়িতে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনের নেতা ক্যুনান চাকমাকে গ্রেফতারের সময়ে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম বাহান্নো টিভির ফেসবুক পেজে পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "ছাত্রী ধ'র্ষণ ইস্যুতে খাগড়াছড়িতে কি হচ্ছে? ধ'র্ষণ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ক্যুনান চাকমাকে গ্রে*ফতারের ঘটনায় ভ*য়াবহ প্রতিক্রিয়া!" ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
এছাড়াও, বাহান্নো টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও আলোচ্য ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়--
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর অনলাইন ভার্সনে "খাগড়াছড়িতে কী হচ্ছে, এখন পর্যন্ত যা যা ঘটল" শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সড়ক অবরোধ চলার সময় সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপেরও ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এর মধ্যেই খাগড়াছড়ি সদরের পাশের উপজেলা গুইমারা বাজারে আগুন দেওয়া ও সংঘর্ষ ঘটনা ঘটে। শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর গুলিতে তিনজন নিহত হন। আহত হন সেনাবাহিনীর সদস্য, পুলিশসহ অন্তত ২০ জন।। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খাগড়াছড়িতে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনের নেতা ক্যুনান চাকমাকে গ্রেফতারের সময়ে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সুতরাং ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




