এক বছরে চট্টগ্রামে ৩শ’ ৭৪ জন মাদ্রাসা ছাত্র এইডস আক্রান্তের দাবিটি সঠিক নয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই তরুণ ও বিদেশ ফেরত।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ১ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইডস রোগী ৪৬৮ জনের ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘মহিউদ্দিন মোহাম্মদ’ নামক একটি পেজ থেকে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “এ বিষয়ে গণসচেতনতা বাড়ানো জরুরী। সেদিন একজন সংসদ সদস্য লাইভ টকশোতে জানিয়েছেন, তার জেলায় (নওগাঁ) সিভিল সার্জন কর্তৃক দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী এইডস রোগীদের প্রায় সবাই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী।” ফটোকার্ডটিতে উল্লেখ্য করা হয়, “১ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন এইডস রোগী ৪৬৮ জনের ৩৭৪ জনই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে অনেকের।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে গত এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন ৪শ’ ৬৮ জনের এইচআইভি আক্রান্তের মধ্যে ৩শ’ ৭৪ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে প্রচারিত তথ্যটি বিভ্রান্তিকর। মূলত, গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩শ’ ৭৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুচের মাধ্যমে মাদক নেওয়া ব্যক্তি, সমকামী, প্রবাসী কর্মী বেশি।
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “সীমান্ত জেলায় এইচআইভি সংক্রমণ বেশি, পার্বত্য চট্টগ্রামে কম কেন” শিরোনামে ’প্রথম আলোর’ ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মোট আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৫০ জন ছিল ঢাকা বিভাগের। এরপরই আছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে সুচের মাধ্যমে মাদক নেওয়া ব্যক্তি, সমকামী, প্রবাসী কর্মীর সংখ্যা বেশি। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়া, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “চট্টগ্রামে নীরবে বাড়ছে মরণঘাতী এইডস; আক্রান্তদের বেশিরভাগই তরুণ” শিরোনামে ‘Jamuna TV’ এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী এইচআইভি এইডস সংক্রমণের একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। যেখানে বলা হয়, ২০২৫ সালে ৩,৯৪২ জনের পরীক্ষায় ৮১ জন এইচআইভি পজিটিভ এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ২,৫০০ এর বেশি পরীক্ষায় ৫৯ জন নতুন এইচআইভি পজিটিভ হয়। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ্য করা হয়, ২০১৭ সালে এআরটি সেন্টার চালু করার পর মোট ৯৫৯ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী নিবন্ধিত হয়েছে। যার বেশিরভাগই তরুণ এবং বিদেশ ফেরত প্রবাসী। প্রতিবেদনটি দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে এইচআইভি আক্রান্ত রোগী” শিরোনামে ‘DBC NEWS Daily’ এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, ২০১৭ সালে সেন্টারটি চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৫৯ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী নিবন্ধিত হয়েছে। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭২৩ জন। নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে রয়েছেন যৌনকর্মী (৩৫ জন), সমকামী (১৪৩ জন) এবং প্রবাসী ও দম্পতি (১২৭ জন)। প্রতিবেদনটি দেখুন--
আলোচ্য প্রতিবেদনগুলোতে এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং এদের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ৩৪৭ জন- এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এমনকি কি ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচ্য দাবির প্রেক্ষিতে কোনো ধরণের তথ্য বা প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং এদের মধ্যে ৩৪৭ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীর আক্রান্তের দাবিটি সঠিক নয়। মূলত, গত বছর চট্টগ্রাম বিভাগে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছিল ৩৭৬ জন।
সুতরাং এক বছরে চট্টগ্রামে নতুন এইচআইভি রোগীর সংখ্যা ৪৬৮ জন এবং এদের মধ্যে ৩৪৭ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রন্তিকর।




