চুরির দায়ে আটককৃত শিশুকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় আটক বলে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, কাশিয়ানীতে স্বর্ণের কানের দুল, স্বর্ণের চেইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরির দায়ে ওই ১৫ বছরের এক ছেলেকে আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ৭ বছরের শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১৯ জুলাই ‘দৈনিক ভোরের পাতা’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “গোপালগঞ্জে নজিরবিহীন গণগ্রেফতার: ‘জয় বাংলা’স্লোগান দেওয়ায় ৭ বছরের শিশুকেও ছাড়ল না পুলিশ!... উপসংহার:-রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে একটি শিশুর শৈশবকে কারান্তরীণ করা সভ্য সমাজের জন্য এক বড় কলঙ্ক। গোপালগঞ্জের এই নজিরবিহীন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন দেশজুড়ে।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য আটককৃত কিশোরটি ৭ বছরের শিশু নয়; তার বয়স ১৫ বছর। এছাড়া, তাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার কারণে নয়; চুরির অভিযোগে আটক করা হয়।
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “গোপালগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চুরির মামলাকে রাজনৈতিক বলে প্রচার, ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ” শিরোনামে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘ডিবিসি’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সুমন শেখ (১৫) নামে এক কিশোরকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, সুমনকে মূলত একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্ক্রিনশট দেখুন--
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “গোপালগঞ্জে কিশোরকে রাজনৈতিক নয়, চুরির মামলায় গ্রেফতার: পুলিশ” শিরোনামে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৮ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সুমন শেখ (১৫) নামে এক কিশোরকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। তবে এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন শেখকে রাজনৈতিক নয়, একটি চুরির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক মামলার সংশ্লিষ্টতা নেই। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার ভাট্টাইধোবা গ্রামের মো. রাজিব মিয়ার বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজিব মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া ইসলামের স্বর্ণের কানের দুল, স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “কাশিয়ানীতে রাজনৈতিক মামলায় নয়, চুরির মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার” শিরোনামে সম্প্রচারমাধ্যম ‘একাত্তর টেলিভিশনের’ ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ জুলাই দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার ভাট্টাইধোবা গ্রামের মো. রাজিব মিয়ার বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাজিব মিয়ার স্ত্রী সোনিয়া ইসলামের একটি সোনার কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইনসহ অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সুমন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়। কাশিয়ানী থানা পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ, চুরির অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের আটক হওয়ার ছবিকে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় ৭ বছরের শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং চুরির অভিযোগে ১৫ বছরের কিশোরের আটকের ছবিকে বিভ্রান্তিকর তথ্যসহ প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে।




