নেপালের ভূমিকম্পের ভিডিও দিয়ে ঢাকার রাস্তার অবস্থা দাবিতে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভিডিওটি বাংলাদেশে ঘটা ভূমিকম্পের নয় বরং এটি ২০১৫ সালে নেপালে সংঘটিত ভূমিকম্পের।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশে সম্প্রতি ভূমিকম্পের ফলে ঢাকার রাস্তার দৃশ্য। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২১ নভেম্বর ‘Migrant Connect SG’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “ভূমিকম্পে ঢাকার অবস্থা দেখুন! এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা তিন! - শুক্রবার ২১ নভেম্বর ২০২৫।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটা ভূমিকম্পের নয় বরং এটি ২০১৫ সালে নেপালে সংঘটিত ভূমিকম্পের সময় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও।
ভাইরাল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “Nepal Earthquake - Visible Lateral Ground Movement” শিরোনামে ‘TheEventRecorder’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০১৫ সালের ১ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটি দেখুন--
যেখানে বলা হয়, নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পনের এক ঝলকে ভয়াবহ দৃশ্য। মাটির এমন তীব্র নড়াচড়া সত্যিই বিস্ময়কর, যা কয়েক সেকেন্ডেই বিশাল এক এলাকায় সবকিছু কাঁপিয়ে দিয়েছে। ভিডিওটির প্রায় ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের মাথায় মূল কম্পনটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। পুরো পর্দায় দেখলে দৃশ্যটি আরও স্পষ্ট হবে।
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “Nepal Earthquake 2015: INSANE ground movement | Did You Miss This?” শিরোনামে ‘Did You Miss This?’ এর ইউটিউব চ্যানেলে একই ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। যেই ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, ২০১৫ সালের এপ্রিলে নেপালে সংঘটিত বিধ্বংসী ভূমিকম্প। যা গোরখা ভূমিকম্প নামেও পরিচিত। যেখানে প্রায় ৯ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এবং আরও প্রায় ২২ হাজার মানুষ আহত হন। ২৫ এপ্রিল, ৭.৮ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। নেপালের রাজধানীতে যে ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়, তা ছিল কম ফ্রিকোয়েন্সির; পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক মানুষ তখন ঘরের বাইরে কাজ করছিলেন। এসব কারণেই প্রত্যাশার তুলনায় হতাহত ও সম্পদের ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কম ছিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ভিডিওটি দেখুন--
পাশাপাশি কি ওয়ার্ড সার্চ করে “নেপাল : ভূমিকম্পের আগে ও পরে” শিরোনামে ‘বিবিসি বাংলা’ এর ওয়েবসাইটে একই প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের এলাকায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার মানুষ, আহত হয়েছে আরও কয়েক হাজার। দেশটির বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি সম্প্রতি ভূমিকম্পে ঢাকার রাস্তার কম্পনের নয়। বরং এটি ২০১৫ সালে নেপালে ভূমিকম্পের সিসিটিভি ফুটেজের ধারণের দৃশ্য।
সুতরাং ১০ বছর আগের নেপালে ভূমিকম্পের সিসিটিভি ফুটেজের দৃশ্য দিয়ে সম্প্রতি ভূমিকম্পে ঢাকার রাস্তায় কম্পনের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




