নোয়াখালীতে মাদ্রাসা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বলে এআই ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, নোয়াখালীতে মাদ্রাসার রান্নাঘর থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের বলে প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, সেনাবাহিনী একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ৫ আগস্ট ‘বিচিত্রা নিউজ’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, 'নোয়াখালীতে মাদ্রাসার রান্নাঘর থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, প্রধান শিক্ষক আটক .........'। স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বাস্তব নয়। মূলত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রচারিত অস্ত্র উদ্ধারের এই ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওটি ‘হাইভ’ (Hive) নামক এআই-ডিপফেক শনাক্তকারী টুল ব্যবহার করে যাচাই করা হয়েছে। বিশ্লেষণে টুলটি ভিডিওটিকে ‘এআই তৈরি’ (AI-generated) হিসেবে শনাক্ত করেছে।
ভিডিওটি নিয়ে সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার ফুটেজ হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও, নোয়াখালীতে (চেয়ারম্যানঘাট এলাকায় আলিম মাদ্রাসায়) মাদ্রাসার রান্নাঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার কিংবা কারও আটকের কোনো খবর কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ভিডিওটির ফ্রেম খুবই দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। এছাড়াও, সেনা সদস্যদের শারীরিক গঠনে ও হাতের গ্লাভসে কৃত্রিমতার ছাপ দেখা যায়। সামনের টেবিলে সাজানো অস্ত্রগুলোর আকার এবং গ্রিপে অসামঞ্জস্য রয়েছে। পেছনের দাঁড়ানো লোকজনের মুখাবয়ব ও চোখগুলোর অভিব্যক্তি স্থির এবং এআই-জেনারেটেড ছবির মতো অস্পষ্ট।
নিখুঁত ফলাফল, তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধতা, সহজলভ্য হওয়ায় এআই দিয়ে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের ভিডিও জেনারেশন টুল 'Veo' বা ভিও'য়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিও হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন, ইমেজ-টু-ভিডিও তৈরি করার টুল এবং সর্বশেষ সংস্করণ, Veo-3 (ভিও-৩) ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কন্টেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে 'গুগলের এআই টুল দিয়ে তৈরি' বলে ফলাফল দিয়েছে। ভিডিও এবং অডিওতে 'SynthID' ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে টুলটি। দেখুন --
অর্থাৎ ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে নোয়াখালীতে মাদ্রাসার রান্নাঘর থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, প্রধান শিক্ষক আটক মর্মে যে ভিডিওটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি বাস্তব ভিডিও নয় এবং ঘটনাটিও সত্য নয়।




