আর্মি প্রটোকলে হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে মোদীর এআই তৈরি ভিডিও প্রচর
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি এআই জেনারেটেড। এআই ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্য বলে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেখানে মোদীকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা ইন্ডিয়ান আর্মি, আমেরিকান আর্মি, রাশিয়ান আর্মি ও ব্রিটিশ আর্মির প্রোটকল নিয়ে বাংলাদেশে ফিরবে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১২ অক্টোবর 'সেলিনা হায়াত আইভি' নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ্য করা হয়, “জননেত্রী দেশ রত্ন শেখ হাসিনা ইনশাআল্লাহ ফিরতেছে ইন্ডিয়ান আর্মি আমেরিকান আর্মি রাশিয়ান আর্মি ব্রিটিশ আর্মি ওনাকে সম্পূর্ণ পটকল দিয়ে বাংলার জমিনে ফিরিয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ জয় বাংলা।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ডিপফেক ভিডিও।
ভিডিওটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলতে শোনা যায়, "প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ অবশ্যই যাবেন। ইন্ডিয়ান আর্মি, আমেরিকান আর্মি, ব্রিটিশ আর্মি এবং রাশিয়ান আর্মির সিকিউরিটি টিম ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ফিরে আসবে। (বাংলায় অনূদিত)”
তবে আলোচ্য তথ্যের ব্যাপারে কি ওয়ার্ড সার্চ করে এই সংক্রান্ত কোনো খবর বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, পজ নেওয়ার ধরন মানুষের স্বাভাবিক কথা বলার মতো নয়। অনেক সময় শব্দগুলো যান্ত্রিক শোনায়। হিন্দি উচ্চারণে কিছু শব্দ ও বাক্য গঠনে এক ধরনের রোবোটিক টান রয়েছে। অডিওটিতে ভারত, আমেরিকা, ব্রিটেন ও রাশিয়ার সেনাবাহিনী একসঙ্গে নিরাপত্তা দিয়ে ডিসেম্বরে কাউকে ফিরিয়ে আনা এবং এ বিষয়ে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবসম্মত নয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বা সামরিক প্রটোকলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সাধারণত, নির্দিষ্ট ব্যক্তির আগে থেকে রেকর্ড করা আসল কণ্ঠের অডিও দিয়ে এআই মডেল ElevenLabs, Ressemble AI এর মতো সহজলভ্য টুলস-এ যেকোনো লিখিত টেক্সট দিলে এআই সেই ব্যক্তির হুবহু কণ্ঠে কথা বানিয়ে দেয়। এরপর Wav2Lip, HeyGen, SadTalker, D-ID-এর মতো লিপ-সিঙ্কিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যক্তির একটি স্থির ছবি বা পুরোনো কোনো ভিডিওর ওপর এআই দিয়ে তৈরি অডিওটি বসিয়ে দিয়ে এ ধরণের ভিডিও তৈরি করা হয়।
পরবর্তীতে, ভিডিওটি এআই-ডিপফেক ডিটেকশন টুলের মাধ্যমে চেক করা হয়। এআই-ডিপফেক অডিও যাচাইয়ের টুল elevenlabs দিয়ে ভিডিও থেকে অডিওটি ফাইলকে আলাদা করে টুলে চেক করা হলে টুলটি অডিওটিকে ফেক অডিও হিসেবে ফলাফল দিয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ ভাইরাল ভিডিওটি এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ফেসবুকে এআই দ্বারা তৈরি অডিওতে নরেন্দ্র মোদীর ছবি যুক্ত করে বাস্তব বক্তব্যের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।




