শহীদের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য বলে এআই ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, পুলিশ কর্মকর্তার নামে প্রচারিত আলোচ্য বক্তব্যের ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হচ্ছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরা এক কর্মকর্তা বলছেন, 'যদি শহীদের সংখ্যা ৩০ লক্ষ হয়ে থাকে তাহলে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা গ্রামে ৫০-৬০ জন শহীদ থাকার কথা ..................।' এরকম একটি পোস্ট দেখুন এখানে।
গত ২০ আগস্ট ‘Akhi's story’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয় "শহীদ ৩০ লাখ নাকি ২ হাজার??" পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--

ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি বাংলাদেশ পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বাস্তব বক্তব্যের নয় বরং এআই প্রযুক্তি সমৃদ্ধ গুগলের ভিডিও তৈরির টুল ভিও-৩ ব্যবহার করে এটি তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য বলে প্রচারিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি।
আলোচ্য ভিডিও থেকে কি-ফ্রেম নিয়ে সার্চ করে এবং ভিডিওতে প্রচারিত দাবি (বক্তব্য) সরাসরি সার্চ করে গণমাধ্যম সহ গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পোডিয়ামের পেছনের ব্যানারে ভিন্ন ভিন্ন ভাষার সংমিশ্রনে লেখা যেটি সাধারণত বাস্তব ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা যায়না। বক্তার সামনে রাখা সংবাদ মাধ্যমগুলোর ইন্টারভিউ মাইকের লোগোও পরিচিত কোনো সংবাদমাধ্যমের নয়। এছাড়া বক্তার পেছনের ব্যনারের টেক্সট দেখা যায় যা পাঠের অযোগ্য।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে এআই তৈরি 'টেক্সট আর্টিফ্যাক্ট'-এর ক্ষেত্রে অক্ষর কেটে যাওয়া, অদ্ভুতভাবে ঘুরানো-উল্টানো বা মুছে যাওয়া, অক্ষরের অমিল ইত্যাদি 'টেক্সট ডিস্টর্শন' দেখা যায়। এই টেক্সট ডিস্টর্শনের ফলে এআই তৈরি ছবি-ভিডিওর লেখা প্রায়শই পাঠযোগ্য হয় না। দেখুন--

ভিডিওতে বাস্তব এমন দৃশ্যের অডিওর তুলনায় ভিডিওটিতে কথা বলার সাউন্ড কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। সম্প্রতি সাধারণত গুগলের ভিও-৩ মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা এআই ভিডিওতে অডিওর এমন উচ্চতর আউটপুট শোনা যায়।
গুগল 'Veo' হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন, ইমেজ-টু-ভিডিও জেনারেশন এবং সর্বশেষ সংস্করণ, ভিও-৩ ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কন্টেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা খালি চোখে দেখা না গেলেও গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে 'গুগলের এআই টুল দিয়ে তৈরি' বলে ফলাফল দিয়েছে। দেখুন--

অর্থাৎ ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিওকে বাস্তবে দেওয়া বক্তব্যের বলে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।