জামায়াতকে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্য বলে এআই ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভিডিওটি এআই জেনারেটেড। ভিডিওতে এআইয়ের লুকোনো ওয়াটারমার্ক রয়েছে বলে গুগলের SynthID শনাক্তকরণ টুল নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, তিনি জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১০ অক্টোবর ‘Ruhul Tanvir’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “মিজানুর রহমান আজহারী কে ধন্যবাদ বাতিলের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারীর বক্তব্যের বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং দৃশ্যটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে এবং ভিডিওতে প্রচারিত দাবি সরাসরি সার্চ করে গণমাধ্যমসহ গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বক্তার ঠোঁটের নড়াচড়া এবং তার উচ্চারিত শব্দের মধ্যে অসংগতি দেখা যায়। কথা বলার সময় বক্তার চোখের পলক ও চোখের মণির অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। চেহারা বা মুখের চামড়ার নড়াচড়া রোবোটিক মনে হয়।
এছাড়া, ভিডিওতে বাস্তব এমন দৃশ্যের অডিওর তুলনায় বক্তার কথা বলার সাউন্ড কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে।
গুগলের ভিও-৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণের মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা এআই ভিডিওতে অডিওর এমন উচ্চ মাত্রার আউটপুট শোনা যায়। গুগল 'Veo' হলো গুগলের একটি প্রায় বাস্তবসম্মত ভিডিও জেনারেশন টুল যা গুগল ডিপমাইন্ড দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। এটি টেক্সট-টু-ভিডিও জেনারেশন, ইমেজ-টু-ভিডিও জেনারেশন এবং সর্বশেষ সংস্করণ, Veo-3 (ভিও-৩) ভিডিওর পাশাপাশি নেটিভ অডিও তৈরি করতে পারে।
এছাড়াও গুগলের জেনারেটিভ টুল তাদের কন্টেন্টে 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা শোনা যায় না বা খালি চোখে শনাক্ত করা যায়না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলটি সেটি শনাক্ত করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় যাচাই করলে টুলটি আলোচ্য ভিডিওটিকে 'গুগলের এআই টুল দিয়ে তৈরি' বলে ফলাফল দিয়েছে। দেখুন--
অর্থাৎ ভিডিওটি এআই প্রযুক্তিতে তৈরি।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিওকে মিজানুর রহমান আজহারীর বাস্তব বক্তব্যের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




