শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে ফরহাদ মাজহারের নামে এআই তৈরি ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি এআই জেনারেটেড। এআই ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে কবি, কলামিস্ট ও চিন্তক ফরহাদ মাজহারের বক্তব্য বলে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেখানে ফরহাদ মাজহারকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকানো জামায়াত ইসলামী ও বিএনপি কারো পক্ষেই সম্ভব না। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
গত ২৯ অক্টোবর 'গ্রীস এথেন্স আওয়ামীলীগ ঢাকা' নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ্য করা হয়, “বাতাস বদলে গেল মনে হয়।শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকানো ! জামাত ,বি .এন. পি কারো পক্ষেই সম্ভব না !জুলাই আন্দোলনে নয়, শেখ হাসিনাকে সরিয়েছে আমেরিকা ! ফরহাদ মজহার( ওরফে সাদা শকুন )।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ডিপফেক ভিডিও।
ভিডিওটিতে কবি, কলামিস্ট ও চিন্তক ফরহাদ মাজহারকে বলতে শোনা যায়, "শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকানো জামায়াত-বিএনপি কারো পক্ষেই সম্ভব না। জুলাই আন্দোলনে নয়, শেখ হাসিনাকে সরিয়েছে আমেরিকা। ৭.৬২ রাইফেল দিয়ে মানুষ মারা হয়েছে। শেখ হাসিনার কোনো দোষ ছিল না।”
তবে আলোচ্য তথ্যের ব্যাপারে কি ওয়ার্ড সার্চ করে এই সংক্রান্ত কোনো খবর বা তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, পজ নেওয়ার ধরন মানুষের স্বাভাবিক কথা বলার মতো নয়। অনেক সময় শব্দগুলো যান্ত্রিক শোনায়। এছাড়া, অডিওটিতে "শেখ হাসিনা" এবং "জামায়াত-বিএনপি" শব্দগুলো বলার সময় কণ্ঠের ওঠানামায় কৃত্রিম ও যান্ত্রিক প্রবাহ লক্ষ্য করা যায়।
সাধারণত, নির্দিষ্ট ব্যক্তির আগে থেকে রেকর্ড করা আসল কণ্ঠের অডিও দিয়ে এআই মডেল ElevenLabs, Ressemble AI এর মতো সহজলভ্য টুলস-এ যেকোনো লিখিত টেক্সট দিলে এআই সেই ব্যক্তির হুবহু কণ্ঠে কথা বানিয়ে দেয়। এরপর Wav2Lip, HeyGen, SadTalker, D-ID-এর মতো লিপ-সিঙ্কিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যক্তির একটি স্থির ছবি বা পুরোনো কোনো ভিডিওর ওপর এআই দিয়ে তৈরি অডিওটি বসিয়ে দিয়ে এ ধরণের ভিডিও তৈরি করা হয়।
পরবর্তীতে, ভিডিওটি এআই-ডিপফেক ডিটেকশন টুলের মাধ্যমে চেক করা হয়। এআই-ডিপফেক অডিও যাচাইয়ের টুল ‘রিসেম্বল এআই’ দিয়ে ভিডিও থেকে অডিওটি ফাইলকে আলাদা করে টুলে চেক করা হলে টুলটি অডিওটিকে ফেক অডিও হিসেবে ফলাফল দিয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ ভাইরাল ভিডিওটি এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ফেসবুকে এআই দ্বারা তৈরি অডিওতে ফরহাদ মাজহারের ভিন্ন ভিডিও এডিট করে বাস্তব বক্তব্যের ভিডিও বলে প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।




