তেহরানে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে এক ভারতীয় আটকের দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, তেহরানে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক আটকের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।

সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে 'দুইজন পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য একজন ব্যক্তিকে দুই দিক থেকে ধরে রাস্তার পাশে থাকা একটি কালো গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। নীল রঙের শার্ট পরা ওই ব্যক্তিটি বারবার নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং ইংরেজিতে ও আরেকটি ভাষায় কিছু বলছেন। তাকে বেশ আতঙ্কিত এবং বিচলিত দেখাচ্ছে।'
ভিডিওটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, ইরানের রাজধানী তেহরানে এক ভারতীয় নাগরিককে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করছিলেন।' এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১২ই মার্চ 'The News' নামক পেজ থেকে এরকম একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, 'গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে তেহরানে একজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে'। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। তেহরানে ভারতীয় নাগরিক আটকের দৃশ্য দাবি করে প্রচারিত ভিডিওটি কোনো বাস্তব ঘটনার নয়, বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটি থেকে কী-ফ্রেম সার্চ করে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে এতে থাকা ব্যক্তিদের মুখমণ্ডল অত্যন্ত ঝাপসা, যা অনেক সময় ডিপফেক বা এআই এডিটিং লুকানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। ছবির নিচে ডানদিকে হাত ও আঙুলের গঠন কিছুটা অস্বাভাবিক এবং অস্পষ্ট মনে হচ্ছে, যা এআই জেনারেটেড কন্টেন্টে প্রায়ই দেখা যায়। দেখুন --
পরবর্তীতে এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুল, নিউ ইয়র্কের University at Buffalo এর মিডিয়া ফরেনসিক ল্যাবের তৈরি DEEPFAKE-O-METER টুল ব্যবহার করে আলোচ্য ভিডিওটিকে যাচাই করলে টুলটির অন্তত ৫টি মডেল ভিডিওটিকে ৮০-৯৯ শতাংশ সম্ভাব্য এআই তৈরি কন্টেন্ট বলে ফলাফলে দিয়েছে। দেখুন --
পাশাপাশি আরেক এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুল 'হাইভ' ব্যবহার করে আলোচ্য ভিডিওটিকে যাচাই করলে এই টুলটিও ৯৯.৭% শতাংশ সম্ভাব্য এআই তৈরি কন্টেন্ট বলে ফলাফলে দিয়েছে। দেখুন --
অর্থাৎ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।
উল্লেখ্য, কোনো একক ব্যক্তি একাধিক ব্যক্তির আসল স্থিরচিত্র থেকে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় কোনো ভিডিও তৈরি করা হলে তাকে ডিপফেক কনটেন্ট বলা হয়।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে তেহরানে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে ভারতীয় নাগরিক আটকের দাবিতে যে ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে, সেটি বাস্তব নয়।




