রাতে কর্মকর্তাদের ব্যালটে সিল দেওয়ার দৃশ্য বলে এআই ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, যশোর-২ আসনে ব্যালটে রাতে কর্মকর্তাদের সিল দেওয়ার ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, একটি কক্ষের ভেতর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মাস্ক পরা অবস্থায় ব্যালট পেপারে সিল মারছেন এবং সেগুলো দ্রুত ব্যালট বাক্সে ভরছেন। কক্ষটিতে থাকা ব্যক্তিদের মাথায় টুপি এবং শীতকালীন পোশাক পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। বলা হচ্ছে ভিডিওটি যশোর-২ আসনের ভোটের আগের রাতের ঘটনা। এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
আজ ১২ই ফেব্রুয়ারি ‘Rezaul Haque’ নামক প্রোফাইল থেকে এরকম একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে ভিডিওটি যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়, “অবৈধ সরকারের নির্বাচন কিভাবে কেন্দ্রের ভিতর প্রিজাইডিং অফিসার-কর্মকর্তারা ভোট ছাপাচ্ছে দেখুন যশোর-২ আসনে সকল ভোট রাতে সম্পন্ন হয়ে গেছে। ইউনুসের সুষ্ঠ নির্বাচন হচ্ছে কেউ কিছু মনে করিও না, সুস্থ সম্পূর্ণ বাংলাদেশর ভোট এগুলা।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। যশোর-২ আসনে কর্মকর্তাদের ব্যালটে সিল দেওয়ার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয় বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিও থেকে কি-ফ্রেম সার্চ করে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। একজনকে দেখা যায় তিনি সিলের কালির বক্সের উপরেই সিল দিচ্ছেন, একজনকে দেখা গেছে সিল দেওয়ার পর উপরে-নিচে ঘোরাচ্ছেন।
পরবর্তীতে এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুল 'হাইভ মডারেশন' ব্যবহার করে আলোচ্য ভিডিওটিকে যাচাই করলে টুলটি অন্তত ৮৫ শতাংশ সম্ভাব্য এআই জেনারেটেড কন্টেন্ট বলে ফলাফলে দিয়েছে। দেখুন--
এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকারী টুল 'DEEPFAKE-O-METER' ব্যবহার করে আলোচ্য ভিডিওটিকে যাচাই করলে টুলটির তিনটি মডেল যথাক্রমে ৯৯, ৯৮ ও ৯৩ শতাংশ সম্ভাব্য এআই জেনারেটেড কন্টেন্ট বলে ফলাফলে দিয়েছে। দেখুন --
অর্থাৎ ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি।
উল্লেখ্য ভিডিওটির স্থিরচিত্র থেকে সার্চ করে প্রাথমিকভাবে কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি। যদি কোনো বাস্তব স্থিরচিত্র থেকে ভিডিও তৈরি করা হয় তাহলে আর্টিফিশাল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি (সম্পাদিত) ভিডিওকে আরো নির্দিষ্ট করে ডিপফেক ভিডিও বলা হয়।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে যশোর-২ আসনে রাতে কর্মকর্তাদের ব্যালটে সিল দেওয়ার দৃশ্য মর্মে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর।




