জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা উদ্ধার বলে এআই ছবি প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি এআই জেনারেটেড। ছবিটিতে এআইয়ের লুকোনো ওয়াটারমার্ক রয়েছে বলে গুগলের SynthID শনাক্তকরণ টুল নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি ছবি যুক্ত করে তৈরি ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, অবশেষে জার্মান পর্যটকের ছিনতাই হয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ফেরত পেয়েছেন। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১০ অক্টোবর ‘Shahin Alam’ নামক একটি আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “অবশেষে জার্মানী পর্যটক ফেরত পেলেন ল্যাপটপ ও ক্যামেরা”। নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয়। জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা উদ্ধারের বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে দাবি অনুযায়ী ছবিটি বাস্তব হওয়ার বিষয়ে কিংবা ছবির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ছবিটিতে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার ইউনিফর্মের ব্যাজ, আইডি কার্ড এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের সাইনবোর্ডগুলোতে থাকা লেখাগুলো অস্পষ্ট, এলোমেলো। পর্যটক ও পুলিশ কর্মকর্তার হাতের আঙ্গুলগুলো কিছুটা অস্বাভাবিক। পর্যটকের হাতে থাকা ল্যাপটপ এবং ক্যামেরার ডিজাইন ও ব্র্যান্ডের লোগোগুলো অনেকটা অদ্ভুত।
আলোচ্য ছবিতে এআই তৈরি ছবির বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
পরবর্তীতে গুগলের এআই শনাক্তকরণ প্রযুক্তি SynthID ব্যবহার করে এই ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিট করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। SynthID -এর ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
নীল চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো ঐ জায়গাতে এআইয়ের লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে (Detected)। (Unsure) এবং কমলা চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়নি (Not detected)।
অর্থাৎ আলোচ্য ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবিকে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা উদ্ধারের বাস্তব ছবি বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর




