পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটি দাবিতে এআই জেনারেটেড ভিডিও প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ভিডিওটি পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটির নয় বরং এআই প্রযুক্তিতে এটি তৈরি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে পাহাড়ের ভেতর থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এটি পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটি। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১ মার্চ ‘Probash Journal’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “ইরানের বিমানবাহিনীর শক্তি দেখে বিশ্ব অবাক ✈️🔥 পাহাড়ের নিচে নির্মিত গোপন বিমান ঘাঁটি — নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের আন্ডারগ্রাউন্ড এয়ারবেস আধুনিক যুদ্ধে বড় কৌশলগত সুবিধা দেয়।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ভিডিওটি বাস্তব নয়। অর্থাৎ ভিডিওটিতে পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটির বাস্তব দৃশ্যের নয় বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।
আলোচ্য ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে দাবি অনুযায়ী ভিডিওটি বাস্তব হওয়ার বিষয়ে কিংবা ভিডিওটির বিষয়েও উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওতে পাহাড়ের সুড়ঙ্গ থেকে বিমান যেভাবে বেরিয়ে আসছে এবং মুহূর্তের মধ্যে অস্বাভাবিক গতিতে আকাশে খাড়াভাবে উঠে যাচ্ছে, তা বাস্তবসম্মত নয়। বাস্তবের একটি যুদ্ধবিমান এই ধরণের কৌণিক অবস্থান থেকে এত দ্রুত গতি অর্জন করতে পারে না। সুড়ঙ্গের মুখের আলোর সাথে বিমানের গায়ের আলোর প্রতিফলনেও অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ভিডিওর ৫ থেকে ৮ সেকেন্ডের মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আকাশে ওড়ার সময় বিমানের আকার এবং আশেপাশের মেঘের গঠন কিছুটা বিকৃত বা ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের টেক্সচার এবং সুড়ঙ্গের মুখে থাকা ইরানি পতাকার রঙের উজ্জ্বলতা অনেকটা এনিমেশন বা ভিডিও গেমের মতো মনে হচ্ছে। বাস্তব ভিডিওতে পরিবেশের ডিটেইলস আরও সুক্ষ্ম হয়।
পরবর্তীতে, এআই-ডিপফেক কন্টেন্ট শনাক্তকরণ টুল 'Sightengine' ব্যবহার করে ভিডিওটি যাচাই করা হয়। টুলটি ভিডিওটিকে সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি ভিডিও হিসেবে ফলাফল প্রদান করেছে। ভিডিওর ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়া এআই ভিডিও শনাক্তের আরেক টুল 'হাইভ' মডারেশন ব্যবহার করেও ভিডিওটি যাচাই করা হয়। এই টুলটিও ভিডিওটিকে সম্ভাব্য এআই দ্বারা তৈরি ভিডিও হিসেবে ফলাফল প্রদান করেছে। ভিডিওটির ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয় বরং এটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিওকে পাহাড়ের নিচে ইরানের বিমান ঘাঁটি দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




