ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের বলে এআই তৈরি ছবি প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। প্রচারিত ছবিতে এআই সৃষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এক নারীকে কোলে তোলার দৃশ্য বলে ছবিটি প্রচার করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৫ জুলাই 'M Shahidul Islam Shawon' নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয় মূলত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। সাদিক কায়েম ও ডাকসু সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার সাধারণ আলাপচারিতার একটি ভিডিও থেকে তাদের উভয়ের দৃশ্য নিয়ে সেই রেফারেন্স দৃশ্য ব্যবহার করে আলোচ্য ছবিটি তৈরি করা হয়েছে। প্রচারিত ছবিতে এআই সৃষ্ট অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে।
আলোচ্য ছবিটি নিয়ে সার্চ করে হুবহু ছবিটির বিষয়ে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে "সাদিক কায়েম কি বলতেছেন রাফিয়া কে" শিরোনামে ইউটিউবে প্রচারিত একটি শর্টস ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে সাদিক কায়েম ও রাফিয়া'কে সাধারণ আলাপচারিতা করতে দেখা যায়।
এই ভিডিওতে তাদের উভয়ের পোশাকের সাথে ফেসবুকে প্রচারিত (দাবিকৃত) ছবিতেও তাদের একই রকম পোষাকে দেখা যায়। ফেসবুকে প্রচারিত ছবির (বামে) সাথে ইউটিউবে প্রচারিত শর্টস ভিডিওর স্ক্রিনশটের (ডানে) মিল দেখুন--
প্রচারিত ছবিদুইটিতে অন্তত তিনটি এআই সৃষ্ট অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। ফেসবুকে প্রচারিত ছবিতে রাফিয়ার চেহারা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে এবং তার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ডিজাইন ও কাঠামো পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এছাড়াও প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সাদিক কায়েমের বাম হাতের কব্জি সহ বাকি অংশ নেই।
মূল ভিডিওতে উভয়ের পোশাকের রঙ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হলেও প্রচারিত ছবিতে তা অনেকটাই ধূসর দেখা যাচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে প্রচারিত ছবিটির রেফারেন্স দৃশ্য কোনোভাবে কোয়ালিটি নষ্ট হওয়ার কারণে অথবা প্রচারিত (কোলাজ ছবি) ছবিটি বারংবার সম্পাদনার কারণে ছবির কোয়ালিটি নষ্ট হয়েছে। অসঙ্গতি দেখুন--
যদিও বারংবার সম্পাদনা কিংবা এই জাতীয় কারণে ছবির কোয়ালিটি অতিরিক্ত কমে যাওয়া বা এআই শনাক্তকরণ প্যাটার্ন নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে শনাক্তকরণ টুলগুলোতে ছবিটির বিষয়ে সঠিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়নি।
অর্থাৎ ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা তৈরি।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী কোনো বাস্তব দৃশ্যেকে এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের হুবহু একই ছবি তৈরি করলেও এই ধরণের কনটেন্টকে এআই তৈরি কনটেন্ট এবং এই ধরণের কোনো কনটেন্টে কোনো ব্যক্তিকে (সাধারণত) বা ব্যক্তির উপস্থিতি সহ কোনো কাজকে নকল করার চেষ্টার মাধ্যমে বিকৃত করা হলে তা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয়।
সুতরাং এআই তৈরি ছবি বাস্তব দৃশ্যের ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




