এআই নির্মিত ছবি ড. ইউনূসের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থার বলে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে ওপেনএআই কর্তৃক গৃহীত গুগলের সিন্থআইডি প্রযুক্তির ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। ছবিটি সহ প্রচারিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৭ আগস্ট ‘জুয়েল আহম্মেদ’ নামক একটি প্রোফাইল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “সবাই দোয়া করেন দীর্ঘজীবি হউক ...”। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আলোচ্য ছবিটি ওপেনএআই এর ইমেজ জেনারেশন টুলের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে ওপেনএআই কর্তৃক গৃহীত SynthID (সিন্থআইডি) প্রযুক্তির ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে।
ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গ্রহণযোগ্য কোনো মাধ্যমে ছবিটির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিউতে চিকিৎসাধীন থাকারও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ কিংবা ইউনূস সেন্টারের ফেসবুক পেজেও এই সম্পর্কিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ছবিটি পর্যবেক্ষণে এতে চশমার ফ্রেম এবং অক্সিজেন মাস্ক একে অপরের সাথে মিশে গেছে। এআই তৈরি ছবিতে প্রায়ই এই ধরণের অসঙ্গতি দেখা যায়। ফলে ছবিটি এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুলে চেক করা হয়।
যাচাইয়ে ছবিটি ওপেন এআই'য়ের টুল তথা চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি বলে ফলাফল দিয়েছে এবং SynthID (সিন্থআইডি) ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে। Google DeepMind তৈরি ডিজিটাল ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তি SynthID মূলত এক ধরনের কনটেন্ট ওয়াটারমার্ক যা খালি চোখে দেখা বা স্বাভাবিকভাবে শনাক্ত করা যায় না। গত ১৯ মে থেকে OpenAI তাদের ইমেজ কনটেন্টে 'Content Credentials'-এর পাশাপাশি Google DeepMind -এর এই প্রযুক্তিও নিজস্ব সংস্করণে যুক্ত করেছে। সাধারণ ছবি সম্পাদনা কিংবা মেটাডাটা মুছে যাওয়ার পরেও গুগলের এই SynthID ওয়াটারমার্কটি টিকে থাকতে পারে এবং নির্ধারিত বিশেষ টুলের মাধ্যমে এটি শনাক্ত করা যায়।
ওপেনএআই এর SynthID শনাক্তকরণ টুলে যাচাইয়ের পরে প্রাপ্ত ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ ছবিটি এআই এর সাহায্যে তৈরি।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী কোনো বাস্তব দৃশ্যকে এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের হুবহু একই ছবি তৈরি করলেও এই ধরণের কনটেন্টকে এআই তৈরি কনটেন্ট এবং এই ধরণের কোনো কনটেন্টে কোনো ব্যক্তিকে (সাধারণত) বা ব্যক্তির উপস্থিতি সহ কোনো কাজকে নকল করার চেষ্টা করা হলে তা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয়।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে এআই তৈরি ছবি বাস্তব দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।




