জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের সমাবেশের ছবি বলে এআই ছবি প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, জামায়াতের সমাবেশে দলটির আমীর শফিকুর রহমানের ছবি বলে প্রচারিত ছবিটি এআই জেনারেটেড।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে জনবহুল একটি সমাবেশে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান মঞ্চে কথা বলছেন। ছবিটি পোস্ট করে বলা হয়েছে, জামায়াতের সমাবেশে জনসমাগম দেখে বিপক্ষ দল বিএনপি দিশেহারা হয়ে গেছে। ছবিটি সহ প্রচারিত কয়েকটি দেখুন এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ‘সৎ কাজে আদেশ করো’ নামক একটি পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “জামায়াতের জনপ্রিয়তা দেখে বিএনপি এখন দিশেহারা হয়ে গেছে।" পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয়। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের একটি জনসভার বলে প্রচারিত ছবিটি বাস্তব নয় বরং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
শুরুতে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে আলোচ্য ছবিটির বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাছাকাছি দেখতে একটি দৃশ্য বা ছবি পাওয়া যায়। ছবিটির বিষয়ে গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবিটি গত ২৪ জানুয়ারি বেলা ১১টায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভার। দেখুন --
ছবিটিতে আলোচ্য প্রচারিত ছবির সাথে জামায়াতে আমীরের পোশাক ও স্টেজের পোডিয়াম সহ বেশকিছু দৃশ্যের মিল থাকলেও সামনের দৃশ্যের তথা জনাসমাবেশের অংশগ্রহণকারী মানুষের অংশের মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়াও পর্যবেক্ষণে ছবিটিতে কিছু অমিল পরিলক্ষিত হয়। জনসমাবেশের অংশগ্রহণকারী মানুষের অংশে স্বাভাবিকতা বর্জিত দৃশ্য দেখা গেছে। সবার চেহারা ঝাপসা, বাস্তবিক সমাবেশে অংশগ্রহণকারী মানুষের মতো এলেমেলো নয় বরং একটি নির্দিষ্ট প্যাটানে সবাই তাকিয়ে আছে। সাধারণত এআই দিয়ে তৈরি ছবিতে এ ধরণের অসঙ্গতি পাওয়া যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একের অধিক আলাদা আসল ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে একই দৃশ্যে তাদের জুড়ে দেওয়া কিংবা একটি ছবিকে সম্পাদনা বা বিকৃত করার উদাহরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিখুঁত এবং সহজলভ্য হওয়ায় এই ধরণের সরাসরি বা ছবি থেকে ছবি তৈরির ক্ষেত্রে গুগলের জেনারেটিভ টুল 'জেমিনি (Gemini)' ব্যবহারের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেমিনির ২.৫ ফ্ল্যাশ বা তার চেয়ে উন্নত মডেলে (ছবির ক্ষেত্রে ন্যানো ব্যানানা বলা হয়) আগের চেয়েও বেশি বাস্তবের ন্যায় যে কোনো ধরণের ছবি তৈরি করতে সক্ষম।
ন্যানো ব্যানানা (Nano Banana) হলো গুগল-এর Gemini 2.5 Flash Image মডেলটির কোডনেম বা অভ্যন্তরীণ ডাকনাম। এই মডেলটি মূলত একটি উন্নত এআই ইমেজ এডিটিং মডেল যা টেক্সট কমান্ড বা বর্ণনা ব্যবহার করে ছবি তৈরি এবং সম্পাদনা করতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদে জেমিনির মডেলগুলোকে আরো উন্নত করা হয়েছে।
জেমিনি টুল দিয়ে তৈরি কিনা নিশ্চিত হতে গুগলেরই SynthID ডিটেকশন টুলে ছবিটিকে যাচাই করা হয়েছে। কেননা গুগলের জেনারেটিভ টুলগুলো তাদের ইমেজ কন্টেন্টে সাধারণ ওয়াটারমার্কিংয়ের পাশাপাশি 'SynthID' নামক এক ধরণের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে।
এই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটি যাচাই করলে 'গুগলের এআই ইমেজ জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং ছবিতে SynthID শনাক্ত করেছে। দেখুন--
অর্থাৎ ছবিটি গুগলের এআই মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে বাস্তব দৃশ্যের বলে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ছবি বাস্তব ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




