জামায়াত নিয়ে আহমাদুল্লাহর এই বক্তব্যটি এআই অডিও যুক্ত করে তৈরি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি এআই জেনারেটেড। এটি এআই ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ডিপফেক ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে শায়খ আহমাদুল্লাহর বক্তব্য বলে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে আহমাদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, “জানেন, জামায়াত-শিবির এখন এমন কিছু ন্যারেটিভ তৈরি করছে যে, তাদের বিরুদ্ধে যে-ই কথা বলুক না কেন সে হয়ে যায় ভারতের দালাল, বিএনপির গোলাম, বিএনপির পা-চাটা ব্যক্তি। আর যদি জামায়াত-শিবিরের পক্ষে বলে, তাহলে সে আল্লাহর যত পাপী বান্দা হোক না কেন, সে হয়ে যায় জান্নাতি ব্যক্তি, চরম পরহেজগার ব্যক্তি। এমন ভণ্ডামি জামায়াত-শিবিরকে ছাড়তে হবে। প্রিয় ভাইয়েরা, জামায়াতে যদি কোনো মূর্খ যোগদান করে, তাহলে সে মূর্খ বড় আলেম হয়ে যায়; আর অন্য দলের শিক্ষিতরাও মূর্খ হয়ে যায়।” এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২ অক্টোবর 'Kobir Hossain Shuvo' নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ্য করা হয়, “১০০% সঠিক বলেছেন, হুজুর, ৫ আগষ্টের পর জনগণ জামায়াত কে বুঝতে পারছে।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ডিপফেক ভিডিও।
ভিডিওটিতে শায়খ আহমাদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, "জানেন, জামায়াত-শিবির এখন এমন কিছু ন্যারেটিভ তৈরি করছে যে, তাদের বিরুদ্ধে যে-ই কথা বলুক না কেন সে হয়ে যায় ভারতের দালাল, বিএনপির গোলাম, বিএনপির পা-চাটা ব্যক্তি। আর যদি জামায়াত-শিবিরের পক্ষে বলে, তাহলে সে আল্লাহর যত পাপী বান্দা হোক না কেন, সে হয়ে যায় জান্নাতি ব্যক্তি, চরম পরহেজগার ব্যক্তি। এমন ভণ্ডামি জামায়াত-শিবিরকে ছাড়তে হবে। প্রিয় ভাইয়েরা, জামায়াতে যদি কোনো মূর্খ যোগদান করে, তাহলে সে মূর্খ বড় আলেম হয়ে যায়; আর অন্য দলের শিক্ষিতরাও মূর্খ হয়ে যায়।”
তবে আলোচ্য তথ্যের ব্যাপারে কি ওয়ার্ড সার্চ করে এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বক্তার ঠোঁট নাড়ার গতির সাথে উচ্চারিত কথা ও শব্দের মিল নেই। কণ্ঠটি শায়খ আহমাদুল্লাহর মনে হলেও উচ্চারণে স্বাভাবিক আবেগ, কথা বলার জড়তা বা স্বাভাবিক টোন নেই। বক্তার মুখাবয়বের নড়াচড়া মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক হয়ে যায় এবং থুতনি বা ঠোঁটের আশেপাশের ফ্রেম একটু ঝাপসা দেখায়।
ফলে ভিডিওটি এআই-ডিপফেক ডিটেকশন টুলের মাধ্যমে চেক করা হয়।
এআই-ডিপফেক অডিও যাচাইয়ের টুল Resemble AI দিয়ে ভিডিও থেকে অডিওটি ফাইলকে আলাদা করে টুলে চেক করা হলে টুলটি অডিওটিকে ফেক অডিও হিসেবে ফলাফল দিয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
পাশাপাশি, ভিডিওটি জেমিনি টুল দিয়ে তৈরি কিনা নিশ্চিত হতে গুগলেরই SynthID ডিটেকশন টুলে এটিকে যাচাই করা হয়েছে। এই শনাক্তকরণ টুলটি ভাইরাল ভিডিওটির অডিওকে 'গুগলের এআই (অডিও) জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং অডিওতে SynthID শনাক্ত করেছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ ভাইরাল ভিডিওটি এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ফেসবুকে এআই দ্বারা সম্পাদিত ভিডিও আহমাদুল্লাহর বাস্তব বক্তব্যের ভিডিও বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




