মারদিয়া মমতাজের বলে এআই সম্পাদিত ছবি প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, মারদিয়া মমতাজের ছবিটি এআই দ্বারা সম্পাদিত। গুগল সিনথআইডি টুলের সাহায্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে এটি এআই দ্বারা সম্পাদনা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে; এতে দেখা যাচ্ছে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মারদিয়া মমতাজের জিন্স পরা ছবি'। এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২১ এপ্রিল 'Mohammed Mohiuddin' নামক প্রোফাইল থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, '... জামায়াতের জিন্স পড়া মমতাজ আসছে সংসদে জামাতের মডারেট ইসলাম মারদিয়া মমতাজ নামক এই মহিলা সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতের নমিনেশন পেয়েছে ... '। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, দাবিটি সঠিক নয়। মারদিয়া মমতাজের নামে প্রচারিত ছবিটি কোনো বাস্তব দৃশ্য নয়, বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। গুগলের সিন্থআইডি (SynthID) শনাক্তকরণ টুল দিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আলোচ্য প্রচারিত ছবিটি রিভার্স সার্চ সহ বিভিন্নভাবে সার্চ করে হুবহু পূর্ণ ছবিটি উল্লেখযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। তবে তার হিজাব পরিহিত ছবির অংশটুকু বিভিন্ন গণমাধ্যমে (১, ২) পাওয়া যায়। দেখুন --
পরবর্তীতে আরও সার্চ করে Mardia Mumtaz -এর অ্যাকাউন্টে গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত গণমাধ্যমে প্রাপ্ত ছবিটি সহ দুটি ছবি পাওয়া যায়। দ্বিতীয় ছবিটিতে একই ইভেন্টের তার আরও একটি পূর্ণাঙ্গ ছবিও পাওয়া যায়। এই ছবিতে দেখা যায় তিনি জিন্স পরেননি। দেখুন --
যেহেতু হিজাব পরিহিত অংশের ছবি ইন্টারনেটে পাওয়া যায় এবং প্রচারিত ছবিটি (জিন্স) কোথাও পাওয়া যায়নি ফলে আলোচ্য ছবিটি গণমাধ্যমে এবং তার ফেসবুকে প্রাপ্ত হিজাব পরিহিত ছবিটির সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি বর্ধিত অংশ সহ বলে প্রতীয়মান হয়।
নিখুঁত ফলাফল, তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধতা, সহজলভ্যতা ও বিনামূল্যের হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে ছবি তৈরি কিংবা কোনো ছবিকে সম্পাদনা করে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুগলের জেনারেটিভ টুল 'জেমিনি (Gemini)' ব্যবহারের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেমিনির ২.৫ ফ্ল্যাশ বা তার চেয়ে উন্নত মডেলে (ছবির ক্ষেত্রে ন্যানো ব্যানানা বলা হয়) আগের চেয়েও বেশি বাস্তবের ন্যায় যে কোনো ধরনের ছবি তৈরি করতে সক্ষম।
ন্যানো ব্যানানা (Nano Banana) হলো গুগল-এর Gemini 2.5 Flash Image মডেলটির কোডনেম বা অভ্যন্তরীণ ডাকনাম। এই মডেলটি মূলত একটি উন্নত এআই ইমেজ এডিটিং মডেল যা টেক্সট কমান্ড বা বর্ণনা ব্যবহার করে ছবি তৈরি এবং সম্পাদনা করতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদে জেমিনির মডেলগুলোকে আরো উন্নত করা হয়েছে। এদিকে, গুগলের জেনারেটিভ টুলগুলো তাদের ইমেজ কনটেন্ট সাধারণ ওয়াটারমার্কিংয়ের পাশাপাশি 'SynthID' নামক এক ধরনের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে।
পরবর্তীতে, ছবিটি জেমিনি টুল দিয়ে তৈরি কিনা নিশ্চিত হতে গুগলেরই SynthID ডিটেকশন টুলে এটিকে যাচাই করা হয়েছে। এই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটি যাচাই করলে 'গুগলের এআই ইমেজ জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং ছবিতে SynthID শনাক্ত করেছে। দেখুন —
এখানে নীল চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে এআই এর লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে (Detected)। এছাড়াও, ধূসর চিহ্নিত অংশের জায়গাতে টুলটি সরাসরি ওয়াটারমার্ক পায়নি তবে সম্ভাবনা রয়েছে (Unsure) এবং কমলা চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়নি (Not detected)। তবে কোনো ছবির কোনো একটি অংশে এই লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়ার অর্থ হলো ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি অথবা সম্পাদিত। যে যে অংশগুলোতে ধূসর ও কমলা দেখা যাচ্ছে সেই অংশগুলোর ওয়াটারমার্ক সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিংবা সম্পাদনার কারণে মুছে যেতে পারে ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
পূর্ববর্তী কোনো বাস্তব দৃশ্যেকে এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের হুবহু একই ছবি তৈরি করলেও এই ধরণের কনটেন্টকে এআই তৈরি কনটেন্ট এবং এই ধরণের কোনো কনটেন্টে কোনো ব্যক্তিকে (সাধারণত) বা ব্যক্তির উপস্থিতি সহ কোনো কাজকে নকল করার চেষ্টা করা হলে তা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয়।
অর্থাৎ ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং সামাজিক মাধ্যমে মারদিয়া মমতাজের বলে এআই সম্পাদিত ছবি প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




