গণমাধ্যমে ছাত্রলীগের মিছিলের এআই সম্পাদিত ছবি
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে। গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলে ছবিতে এআই ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি গণমাধ্যমের পেজে একটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। ফটকার্ডে দেখা যাচ্ছে কিছু লোকের মশাল মিছিলের ছবি। ফটোকার্ডে ছবির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, "গভীর রাতে বাঁশখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মশাল মিছিল (মিছিলের ছবি)"। দৈনিক আজকের পত্রিকার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ফটোকার্ডটি দেখুন - এখানে। এছাড়াও ছবিটি নিয়ে প্রকাশিত আরও দুইটি ফটোকার্ড দেখুন এখানে ও এখানে।
গত ১৪ আগস্ট আজকের পত্রিকার ফেসবুক পেজ থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন --
ফ্যাক্ট-চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, ছবিটি বাস্তব নয় মূলত এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ছবিটি একটি স্থিরচিত্রকে সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। গুগলের SynthID ডিটেকশন টুলে ছবিটি যাচাই করলে 'গুগলের এআই ইমেজ জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল পাওয়া গেছে এবং ছবিতে SynthID ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে।
সার্চ করে আলোচ্য ছবিটি নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদটির একটি আর্কাইভ সংস্করণ পাওয়া যায়। এতে দেখা যায় ফটোকার্ডে ছবিটি তারা এই মিছিলের ভিডিও থেকে সংগ্রহ করেছে।তবে প্রতিবেদনটিতে পরে তথ্যগত পরিবর্তন আনা হলেও সে বিষয়ে কোনো ডিসক্লেইমার দেওয়া হয়নি। দেখুন --
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সার্চ করে (বাঁশখালীতে মিছিল) ফেসবুকে একটি পেজে আলোচ্য মিছিলের একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ৫১ সেকেন্ডের দৃশ্যের সাথে আজকের পত্রিকায় প্রচারিত ছবিটির দৃশ্যের এক অংশের মিল পাওয়া যায়। আজকের পত্রিকায় প্রচারিত ফটোকার্ডের (বামে) সাথে ফেসবুকে পাওয়া মিছিলের ভিডিওটির ৫১ সেকেন্ডের দৃশ্যের পাশাপাশি তুলনা দেখুন --
মূল ছবির (ভিডিওর স্থিরচিত্র) থেকে যেহেতু প্রচারিত ছবিটির ভিন্নতা রয়েছে। সেহেতু প্রতীয়মান হয়, ছবিটি সম্পাদনা করা হয়েছে। উভয় ছবির মধ্যকার অমিল অংশটুকু লাল চিহ্নিত অবস্থা দেখুন --
নিখুঁত ফলাফল, তুলনামূলক কম সীমাবদ্ধতা, সহজলভ্যতা ও বিনামূল্যের হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে এআই দিয়ে ছবি তৈরি কিংবা কোনো ছবি সম্পাদনার ক্ষেত্রে গুগলের জেনারেটিভ টুল 'জেমিনি (Gemini)' ব্যবহারের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেমিনির ২.৫ ফ্ল্যাশ বা তার চেয়ে উন্নত মডেলে (ছবির ক্ষেত্রে ন্যানো ব্যানানা বলা হয়) আগের চেয়েও বেশি বাস্তবের ন্যায় যে কোনো ধরনের ছবি তৈরি করতে সক্ষম।
ন্যানো ব্যানানা (Nano Banana) হলো গুগল-এর Gemini 2.5 Flash Image মডেলটির কোডনেম বা অভ্যন্তরীণ ডাকনাম। এই মডেলটি মূলত একটি উন্নত এআই ইমেজ এডিটিং মডেল যা টেক্সট কমান্ড বা বর্ণনা ব্যবহার করে ছবি তৈরি এবং সম্পাদনা করতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদে জেমিনির মডেলগুলোকে আরো উন্নত করা হয়েছে। এদিকে, গুগলের জেনারেটিভ টুলগুলো তাদের ইমেজ কনটেন্ট সাধারণ ওয়াটারমার্কিংয়ের পাশাপাশি 'SynthID' নামক এক ধরনের ওয়াটারমার্কিং ব্যবহার করে যা খালি চোখে শনাক্ত করা যায় না। তবে গুগলের SynthID ডিটেকশন টুল সেটি শনাক্ত করতে পারে।
পরবর্তীতে, ছবিটি জেমিনি টুল দিয়ে সম্পাদিত কিনা নিশ্চিত হতে গুগলেরই SynthID ডিটেকশন টুলে এটিকে যাচাই করা হয়েছে। এই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচারিত ছবিটি যাচাই করলে ছবিতে 'গুগলের এআই ইমেজ জেনারেটিভ মডেল ব্যবহার করা হয়েছে' বলে ফলাফল দিয়েছে এবং মূল ছবির থেকে যে দৃশ্যগুলো বেশি দেখা গেছে সেই নোংরা অবস্থার ও বৃদ্ধের প্রস্রাব করার দৃশ্যে SynthID ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করেছে। দেখুন--
এখানে নীল চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে এআই এর লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়া গেছে (Detected)। এছাড়াও, ধূসর চিহ্নিত অংশের জায়গাতে টুলটি সরাসরি ওয়াটারমার্ক পায়নি তবে সম্ভাবনা রয়েছে (Unsure) এবং কমলা চিহ্নিত অংশের অর্থ হলো এই জায়গাতে ওয়াটারমার্ক পাওয়া যায়নি (Not detected)। তবে কোনো ছবির কোনো একটি অংশে এই লুকোনো ওয়াটারমার্ক পাওয়ার অর্থ হলো ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি অথবা সম্পাদিত। যে যে অংশগুলোতে ধূসর দেখা যাচ্ছে সেই অংশগুলোর ওয়াটারমার্ক সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে কিংবা সম্পাদনার কারণে মুছে যেতে পারে ফলে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে মিছিলে লোকের সংখ্যা বৃদ্ধি করে দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী কোনো বাস্তব দৃশ্যকে এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে নতুন সংস্করণের হুবহু একই ছবি তৈরি করলেও এই ধরণের কনটেন্টকে এআই তৈরি কনটেন্ট এবং এই ধরণের কোনো কনটেন্টে কোনো ব্যক্তিকে (সাধারণত) বা ব্যক্তির উপস্থিতি সহ কোনো কাজকে নকল করার চেষ্টা করা হলে তা ডিপফেক কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয়।
সুতরাং গণমাধ্যমে মাধ্যমে এআই দ্বারা সম্পাদিত ছবি আসল ছবি বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




