রামিসা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত সোহেল কি জামায়াতের কর্মী ?
পল্লবীতে রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা জামায়াতের কর্মী বলে নির্ভরশীল সূত্রের বরাতে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানার ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, অভিযুক্ত সোহেল রানা জামায়াত ইসলামীর একজন সক্রিয় কর্মী। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২০ মে ‘InfoBangla’ নামক একটি পেজ থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “শিশু রামিসা হ:ত্যা মামলা: অভিযুক্ত সোহেল জামায়াতের সক্রিয় কর্মী, জানাল এলাকাবাসী।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি সোহেল রানা জামায়াত ইসলামীর সক্রিয় কর্মী নন। তবে, তিনি যুবলীগের কর্মী দাবিতে যুগান্তরের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়।
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “প্রকাশ্যে এলো শিশু রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারী সোহেলের যত অপকর্ম” শিরোনামে ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’র অনলাইনে ২২ মে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকায় আসার আগে গ্রামে থাকতেই মাদক ও অনলাইন জুয়ায় মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল সোহেল। জুয়ার কারণে বিপুল অঙ্কের ঋণে জর্জরিত হয়ে একপর্যায়ে সে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। এছাড়া পারিবারিক ও নৈতিক স্খলনের নানা অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সবশেষ পল্লবীর একটি সাবলেট বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
আলোচ্য প্রতিবেদনটিতে সোহেলের বিভিন্ন অপকর্ম সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হলেও তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “শিশু রামিসা হত্যা: অভিযুক্ত সোহেলের অতীতও অন্ধকার” শিরোনামে ‘বাংলানিউজ২৪’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২১ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়, নিজ এলাকা নাটোরের সিংড়া মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে চুরির অপবাদ, পরকীয়া, লাখ লাখ টাকার জুয়ার ঋণ আর পারিবারিক কলহের জেরে তিন বছর আগেই গ্রামছাড়া হয়েছিলেন সোহেল। স্ক্রিনশট দেখুন--
কি ওয়ার্ড সার্চ করে “শিশু রামিসা হ'ত্যা'র আসামি সোহেল, আগেও জড়িত ছিল নানা অপরাধে” শিরোনামে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘একুশে টেলিভিশন’ এর ফেসবুক পেজে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২২ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডিবির বরাত দিয়ে বলা হয়, অভিযুক্ত সোহেল রানার বিরুদ্ধে চুরি ও নানান ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি দেখুন--
আলোচ্য প্রতিবেদনেও ডিবির পক্ষ থেকে তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি কি ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো গণমাধ্যমে সোহেলের বিভিন্ন ধরণের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও তিনি জামায়াতের সক্রিয় কর্মী বলে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, সংশ্লিষ্ট কি ওয়ার্ড সার্চ করে “শিশু রামিসা হত্যা, যুবলীগ কর্মী সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড চান স্বজনরা” শিরোনামে ‘যুগান্তর’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২২ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রামিসা আক্তার হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে যুবলীগ কর্মী বলে উল্লেখ্য করা হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
সুতরাং রামিসা ধর্ষণের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে জামায়াতের সক্রিয় কর্মী দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




