পটুয়াখালীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে হিন্দুবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বলে প্রচার
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, অগ্নিসংযোগ নয় বরং পাশের বাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পটুয়াখালীতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, পটুয়াখালী জেলায় পাঁচটি হিন্দুবাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৪ জুন 'M Kiron' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "পটুয়াখালী জেলা শহরে পাঁচটি হিন্দু বসত বাড়িতে দুর্বৃত্তের হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ‼️"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পটুয়াখালীতে আগুন লেগে কয়েকটি বসতবাড়ি পুড়ে যায় এবং সেখানে ইচ্ছাকৃত অগ্নিসংযোগের কোনো ঘটেনি।
আলোচ্য ভিডিওটি সম্পর্কে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এখন টিভির ফেসবুক পেজে গত ৫ মার্চ পোস্ট করা একটি পোস্টে আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ফেসবুক পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "আমার সার্টিফিকেট সব পুরে শেষ এখন আমরা কি করমু,পটুয়াখালী পাঁচটি বসতবাড়িসহ দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুরে ছাই।" ওই ভিডিওটিতে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিদেরকে বলতে শোনা যায়, বাসার পাশে পাগল, মাদকসেবীদের আড্ডাখানা হওয়ায় তাঁদের কাছ থেকে কোনোভাবে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর আগেও ছোটোখাটো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানায় ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে অনলাইন পোর্টাল ঢাকা পোস্ট, বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে এবং দৈনিক পত্রিকা যুগান্তরের অনলাইন ভার্সনে প্রচারিত প্রতিবেদন থেকে ওই দুর্ঘটনার ব্যাপারে জানা যায়।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে নয় দুর্ঘটনাক্রমে পটুয়াখালীর ওই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
সুতরাং দুর্ঘটনার ফলে আগুন লেগে যাওয়ার ভিডিওকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




