মুরাদনগরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা: ভারতীয় মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর তথ্য

২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর মাসের হামলার তথ্যকে সাম্প্রতিক তথ্য হিসেবে প্রচার করা হয়েছে

ভারতের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সোম ও মঙ্গলবার (২ ও ৩ নভেম্বর ২০২০) একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে যাতে জানানো হয়েছে, ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেস এর একজন নেতা তার দেশের সরকারকে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

PTI এর "Cong urges Centre to take up with B'desh attacks on Hindus" শিরোনামের প্রতিবেদনের বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে ইকোনোমিক টাইমস, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ডেকান হেরাল্ড, দ্য কুইন্ট, ইত্যাদি সংবাদমাধ্যম।

PTI এর ২ নভেম্বর ২০২০ এর প্রতিবেদনের প্রথম দুটি প্যারা হুবহু এরকম--

"Voicing concern over reports of attack on minority Hindu community in some parts of Bangladesh, Congress leader in Lok Sabha Adhir Ranjan Chowdhury on Monday urged the Centre to take up the issue immediately with the neighbouring country.

He referred to recent media reports that temples were attacked and Hindu families in Bangladesh became victims of arson and loot by fundamentalist forces."


এরপরে গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ঢাকার একটি মিডিয়া রিপোর্ট বলে দাবি করে নিচের প্যারাগুলো লেখা হয়েছে পিটিআই এর প্রতিবেদনে--

"At least 15 Hindu temples in Bangladesh have been vandalised over allegations of disrespect shown to Islam on Facebook, triggering panic among the minority community in some areas, a report from Dhaka said on October 31.

Temples at Nasirnagar in Brahmanbarhia district in Bangladesh were vandalised on Sunday and over 100 houses in the area belonging to Hindus were looted, the media report said.

After the violence, which reportedly lasted for hours, two temples in adjacent Madhabpur in Habigunj also came under attack, the report said quoting police and eyewitnesses."

কিন্তু এই প্যারাগুলোর অনেক শব্দ, বাক্য এবং তথ্য প্রায় পুরোপুরিই মিলে যাচ্ছে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের একাধিক মিডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টের সাথে।

PTI এর বরাতেই ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবর ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিলো, "15 temples in Bangladesh vandalised, houses of Hindus looted"

সেই প্রতিবেদনের শুরুর কয়েকটি প্যারা হলো--

"At least 15 Hindu temples in Bangladesh have been vandalised over allegations of disrespect shown to Islam on Facebook, triggering panic among the minority community in the Muslim-majority nation.

Temples in Brahmanbarhia district's Nasirnagar were vandalised on Sunday; besides over 100 houses of Hindus in the area have also been looted.

After the mayhem for hours, two temples in adjacent Habiganj's Madhabpur also came under attack, police and witnesses said."

নিচে দুটি রিপোর্টের তুলনামূলক স্ক্রিনশট দেখুন--



চলতি ২ নভেম্বরের রিপোর্টে পিটিআই আরও একটি প্যারা রয়েছে এরকম--

"Six persons have been arrested for their alleged involvement in the attack and paramilitary Border Guards Bangladesh deployed at Nasirnagar and Madhabpur Upazila headquarters along with the Rapid Action Battalion, police and Armed Police Battalion to maintain law and order, the report said.


দ্য হিন্দু এর ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এই প্যারাটি এসে এভাবে--

"Six persons were arrested for their alleged involvement in the attack.

Paramilitary Border Guards Bangladesh (BGB) have been deployed in Nasirnagar and Madhabpur Upazila headquarters along with the Rapid Action Battalion, police and Armed Police Battalion, bdnews24.com reported."


মূলত bdnews24.com এর ৩০ অক্টোবর ২০১৬-এর এই প্রতিবেদনকে ভিত্তি ধরে পিটিআই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলো তখন। এবং সেই প্রতিবেদনটি দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ আরও অনেক সংবাদমাধ্যম ওই বছর প্রকাশিত হয়েছিল।

অর্থাৎ, ২০১৬-এ ব্রাহ্মবাড়িয়ার নাসিরনগরে ঘটা হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনার তথ্যকে সাম্প্রতিক ঘটনার তথ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে পিটিআই এর প্রতিবেদনে। এবং এই প্রতিবেদনটি প্রায় হুবহু প্রকাশিত হয়েছে শীর্ষস্থানীয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে, যার লিংক উপরে দেয়া হয়েছে।

তবে দ্য কুইন্ট 'পিটিআই' এর প্রতিবেদনের তথ্যের সাথে নিজেদের ইনপুট যোগ করেছে। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ফ্রান্সে মহানবী (সা) এর কার্টুন প্রদর্শনীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজনের শিরোচ্ছেদের পর প্রেসিডেন্ট ম্যাকরনের দেয়া বক্তব্যের প্রশংসা করে এক কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক কর্তৃক ফেসবুকে মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে "ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, হবিগঞ্জের মাধবপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় ১৫ মন্দির ও ১০০ ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে"।


নাসিরনগর ও মাধবপুর নয়, মুরাদনগরে হামলা হয়েছে:

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ম্যাকরনের বক্তব্যের প্রশংসায় ফেসবুকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক শিক্ষকের কমেন্ট করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে সেটি ঘটেছে কুমিল্লার মুরাদনগরে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত খবর এসেছে।

বিবিসি বাংলা মঙ্গলবার এ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে যার শিরোনাম, "মুরাদনগরে হিন্দু বাড়িঘরে হামলা: ধর্ম অবমাননা নাকি রাজনীতি?" এই প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানানো হয়, "৮/১০ টি বাড়িঘর ভাংচুর" করা হয়েছে।

বিডিনিউজ-ও এই ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। "মুরাদনগরে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস: মাইকে হয়েছিল প্রচার, লুটপাটে ছিল 'অচেনারা' শিরোনামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "সবমিলিয়ে প্রায় ২০টি ঘর ও মন্দিরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।"

Updated On: 2020-11-04T17:14:42+05:30
Claim Review :   চলতি বছরের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের নাসিরনগরে হামলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ১৫ মন্দির ও ১০০ ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে
Claimed By :  Media Outlets
Fact Check :  Misleading
Show Full Article
Next Story