কুরআন অবমাননার অভিযোগ: পূজামণ্ডপে হামলা ও বিক্ষোভ-সহিংসতার ৩ দিন

এই নিবন্ধ গত ১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কুরআন অবমাননার অভিযোগের সুত্রপাত ও সার্বিক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার একটি প্রয়াস।

কুমিল্লায় সনাতন ধর্ম হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার মণ্ডপে মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ উঠে গত ১৩ অক্টোবর বুধবার সকালে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে কুমিল্লা শহর ও আশপাশের জেলাগুলোতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মন্দির ও পূজা উপলক্ষে স্থাপিত পূজামণ্ডপে দফায় দফায় হামলা ও পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এ নিয়ে সহিংসতা ও সংঘাতে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এদিকে, অজ্ঞাত কারণে দেশের অধিকাংশ মূলধারার গণমাধ্যম এই ইস্যুতে প্রতিবেদন প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সংযত বা বিরত ছিল। তবে ব্যতিক্রম ছিল বিবিসি বাংলা ও অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজ২৪। এ দুটি গণমাধ্যম পরিস্থিতি অনেকাংশে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বাকী গণমাধ্যমগুলো বিচ্ছিন্নভাবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার খবর ছেপেছে।

এই নিবন্ধে বুম বাংলাদেশ গত ১৩ অক্টোবর অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে ১৫ অক্টোবর শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৩ দিনে কুমিল্লায় কুরআন অবমাননার অভিযোগের মূল ঘটনার সুত্রপাত ও সাবির্ক ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

বুধবার: ঘটনার সুত্রপাত, পূজামণ্ডপে হামলা, বিক্ষোভ-সহিংসতা ও প্রাণহানী

দুর্গাপূজা উপলক্ষে কুমিল্লায় নানুয়া দিঘীর পাড়ে স্থাপিত পূজামণ্ডপের মূল অংশের বাহিরে প্রদর্শিত একটি হনুমানের মুর্তির কোলে মুসলিমদের ধর্মীয় গ্রন্থ পবিত্র কুরআন পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বুধবার খুব ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর আসে যে নানুয়ারদীঘির পূজামণ্ডপের ভেতরে প্রতিমার পায়ের কাছে একটি কোরআন রাখা আছে। "কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন রেখেছে কারা চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি, শহরে বিজিবি মোতায়েন" শিরোনামে ঐদিনই প্রকাশিত এ খবরে বিবিসি বাংলা আরো জানায়, খবর পেয়েই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং সেখান থেকে কুরআন নিয়ে আসেন। দেখুন স্ক্রিনশট--


এদিকে যে পূজামণ্ডপে কুরআন পাওয়া গেছে, সেখানে পূজার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওইদিন অর্থাৎ অষ্টমীর দিনই তারা প্রতিমা বিসর্জন দিয়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। বিবিসির খবরের সংশ্লিষ্ট অংশের স্ক্রিনশট দেখুন--


তবে কে বা কারা পূজামণ্ডপে কুরআন রেখেছে তা চিহ্নিত করতে না পারলেও, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও বলা হয় ওই প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলছেন , "কোরআন পূজামণ্ডপে কারা রেখেছে সেটি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কমিটি করেছি এবং পুলিশও আলাদা তদন্ত করছে। এজেন্সিগুলো থেকেও তথ্য নিচ্ছি।আশা করি যারা দায়ী তাদের চিহ্নিত করতে পারবো"।

তিনি বলেন, "তদন্ত না করে বলা যাবে না। এটার বিভিন্ন গ্রুপ থাকতে পারে। এখন সন্দেহের ওপর বলা ঠিক হবেনা। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটেরে নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে জানাবে। পুলিশও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। বিভিন্ন এজেন্সির কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি। এখন চাচ্ছি শহর শান্তিপূর্ণ থাকুক। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আমরা বুঝতে পারবো। আমরা আশাবাদী যে আমরা চিহ্নিত করতে পারবো"।

প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদারের অনেক কথা ও আশ্বাস জানালেও কুমিল্লায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সেদিন দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। এনিয়ে ভুুক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন পুলিশ সময়মত না আসাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া হামলাকারীরা অচেনা বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বুধবারের ঘটনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রকাশিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের বিস্তারিত দুটি প্রতিবেদন এবং বিবিসি বাংলার বুধবারের একটি প্রতিবেদন দেখুন--

"কুমিল্লা: মন্দিরে সংঘবদ্ধ হামলাকারীরা অচেনা, বলছেন স্থানীয়রা"

"কুমিল্লায় পুলিশ সময়মতো আসেনি, অভিযোগ মন্দির কমিটির"

"কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়া নিয়ে শহরে উত্তেজনা, মণ্ডপে হামলা"

এদিকে, ওই ঘটনার ছবি ও ভিডিও তাৎক্ষণিক সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে, কুমিল্লা পাশাপাশি দেশের কয়েকটি জেলায় বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনাও ঘটে। কোথাও কোথাও মুর্তি ভাংচুরের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। উত্তেজনা নিরসনে বুধবার সন্ধ্যা থেকে কুমিল্লায় পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এরমধ্যে মণ্ডপে হামলাকারী ও বিক্ষোভকারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে। সেখানে বুধবারে অন্তত ৪ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু খবর দেখুন--

বিডিনিউজ২৪--"বাঁশখালী-কর্ণফুলীতে মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর"

বিডিনিউজ২৪--"মৌলভীবাজারে পূজা মণ্ডপে ভাঙচুর, বিজিবি মোতায়েন"

বিডিনিউজ২৪--"কক্সবাজারে পূজামণ্ডপ ও হিন্দু বাড়িতে হামলা, আটক ৯"

দ্য ডেইলি স্টার--"কুমিল্লায় ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন"

বিবিসি বাংলা--"কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার জের ধরে চাঁদপুরেও হামলা, সংঘর্ষে ৪ জন নিহত"

বিডিনিউজ২৪--"কুমিল্লার পর চাঁদপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, প্রাণহানি"

"Police-mob clash: Probe committee formed in Chandpur" শিরোনামে চাঁদপুরে হতাহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার পত্রিকার ইংরেজি ভার্সন।

এছাড়া কে বা কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে তা খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। ধর্ম মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া নির্দেশনা নিয়ে দৈনিক সমকাল অনলাইনে প্রকাশিত খবর, "কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবরটি খতিয়ে দেখছে সরকার"। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস নিয়ে বিডিনিউজের খবর "কুমিল্লার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী"।

বৃহস্পতিবার: সারাদেশে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ ও পূজামণ্ডপে হামলা এবং প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা

গাজীপুর, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বান্দরবান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বৃহস্পতিবারে নতুন করে হামলা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে গণমাধ্যমে। বেশির ভাগ পূজামণ্ডপে লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হয়ে প্রতিমা ভাংচচুর করেছে, দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবারের হামলা ও পুরো ঘটনা নিয়ে "এখনো থামেনি হামলা-ভাঙচুর : বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে ভাঙচুর ও সংঘর্ষ > নিরাপত্তায় ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন" শিরোনামে বিস্তারিত এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ভোরের কাগজ। প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট দেখুন--


বান্দরবনের লামা উপজেলায় বৃহস্পতিবার সকালে 'সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা' ব্যানারে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদ মিছিল শেষে মন্দিরে হামলা ঘটনা ঘটে। এসময় সংঘর্ষে পুলিশ সহ ১২/১৩ জন আহত হওয়া খবর দিয়েছে বিডিনিউজ, খবরটির শিরোনাম "বান্দরবানে মিছিল করে এসে মন্দিরে, বাড়িঘরে ভাঙচুর"। একই দিনে গাজীপুরে মন্দিরে হামলা নিয়ে পত্রিকাটির আরেকটি খবর, "গাজীপুরে ৩ মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, আটক ২০"

এদিকে, দৈনিক ইত্তেফাকে বুধবার ও বৃহস্পতিবারের কুমিল্লায় কুরআন অবমাননা ও পূজামণ্ডপে হামলা বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে একটি সার্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম, "দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা, কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী"

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থান জানান প্রধানমন্ত্রী। এনিয়ে বিডিনিউজের শিরোনাম, "এমন শাস্তি হবে ভবিষ্যতে কেউ সাহস পাবে না: প্রধানমন্ত্রী"

খবরটিতে বলা হয়, "কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে 'ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা' সৃষ্টি করছে তাদেরকে অবশ্যই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।"

এছাড়া, বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বুধবার থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য কঠোর হুশিয়ারি প্রদান করে একটি ভিডিও বার্তা দেন, প্রধানমন্ত্রী। ১৪ অক্টোবর রাত ১০টায় আপলোড করা ফেসবুকের ভিডিওবার্তাটি দেখুন--

শুক্রবার: সারাদেশে থ্রিজি ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ, বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, পূজামণ্ডপে হামলা ও হামলার প্রতিবাদ:

সারাদেশে উচ্চগতির থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা শুক্রবার ভোর ৫ টা থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয়। যা শুক্রবার সন্ধ্যায় এবং কোথাও কোথাও রাতে স্বাভাবিক হয়। সরকার বা মুঠোফোন কোম্পানিগুলো থেকে এর কারণ বলা না হলেও গণমাধ্যম বলছে সাম্প্রদায়িক সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এরআগে বুধবার থেকেই কুমিল্লা ও এর পাশ্ববর্তী ৫ জেলায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে বিডিনিউজ ও প্রথম আলোর কয়েকটি প্রতিবেদন দেখুন।

বিডিনিউজ২৪--"সারা দেশে উচ্চগতির থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ"

প্রথম আলো--"ভোর থেকে সারা দেশে মুঠোফোনে থ্রিজি-ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ"

বিডিনিউজ২৪--"মোবাইল ইন্টারনেট: ১২ ঘণ্টার ছন্দপতন, সেবাবঞ্চিত অনেকেই"

এদিকে, শুক্রবার রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, পূজামণ্ডপে হামলা এবং হামলার প্রতিবাদে 'মৌন প্রতিবাদ' কর্মসূচি পালিত হয়েছে। নোয়াখালীতে হামলার পর একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এনিয়ে গণমাধ্যমের কয়েকটি রিপোর্ট দেখুন--

বিবিসি বাংলা--"ঢাকা ও নোয়াখালীতে জুমার নামাজের পর সংঘর্ষ, ১ জনের মৃত্যু"

বিডিনিউজ২৪--"নোয়াখালীতে পূজামণ্ডপে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর, ১৪৪ ধারা"

বিবিসি বাংলা--"পূজামণ্ডপ: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূজামণ্ডপে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও মন্দিরে ভাঙচুর"

এসব খবরে বলা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ, পল্টন, কাকরাইল ও মালিবাগ মোড় এলাকায় এবং নোয়াখালী জেলার চৌমুহনীতে পুলিশের সাথে লোকজনের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সংঘর্ষের জের ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের দোকানপাট, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালানোর খবর পাওয়া গেছে। এ সময় যতন কুমার সাহা নামে এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত মারা গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে একাধিক গণমাধ্যমে। "সাম্প্রদায়িক হামলা: ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের মৌন প্রতিবাদ" শিরোনামে বিডিনিউজ এবং "পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় ঢাবিতে মৌন প্রতিবাদ" শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে প্রথম আলো।

অন্যদিকে, শুক্রবার ছিল দুর্গাপূজার শেষদিন বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের দিন। সহিংসতার আশঙ্কা ও আতঙ্ক নিয়ে এদিনটি শেষ হয়েছে এদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের। কোথাও কোথাও মণ্ডপে হামলার আশঙ্কায় যেমন আগেই প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে, কোথাও কোথাও উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কিছুটা দেরিতে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে, তবে তা শান্তিপূর্ণ ছিল। এ নিয়ে কুমিল্লার স্থানীয় পত্রিকা 'কুমিল্লার কাগজ' সহ বহু গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মধ্যে কয়েকটি দেখুন--

কুমিল্লার কাগজ--"কুমিল্লায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক, শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিমা বিসর্জন"

ঢাকানিউজ২৪--"কুমিল্লায় আতংকের মাঝেও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন"

বিডিনিউজ২৪--"মণ্ডপে হামলা: ৫ ঘণ্টা পর চট্টগ্রামে প্রতিমা বিসর্জন"

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, কুমিল্লার কুরআন অবমাননার জন্য দায়ী কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার কিংবা চিহ্নিত করতে পেরেছে প্রশাসন এমন কোন খবর গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। তবে পূজামণ্ডপে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগে ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও গাজীপুর, এই ১০ জেলায় অন্তত ২৮ মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে আসামী ৯ হাজারেরও বেশি। গ্রেফতার হয়েছেন দুই শতাধিক। "১০ জেলায় ২৮ মামলায় আসামি সাড়ে ৯ হাজার" শিরোনামে ১৮ অক্টোবর সমন্বিত এক প্রতিবেদনে প্রথম আলো বলছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত নেতারাও রয়েছেন।

আর কে বা কারা কুরআন রেখেছে মুর্তির কোলে এবং কে জাতীয় জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল করেছিলেন এসব নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে আজ ২০ অক্টোবর প্রথম আলোর একটি বিশেষ প্রতিদেবন "সরেজমিন: কুমিল্লা, দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ, শহরের নানুয়া দীঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন নিয়ে যাওয়া ব্যক্তি শনাক্ত"। প্রতিবেদনটির স্ক্রিনশট দেখুন--




এছাড়া, "Seven dead after violence erupts during Hindu festival in Bangladesh" শিরোনামে ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত খবরে বৃটিশ গণমাধ্যম দি গার্ডিয়ান বলছে, কুরআন অবমাননার অভিযোগে বুধবার থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৫ জন মুসিলম ও ২ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মারা গেছেন।

Updated On: 2021-10-20T13:43:14+05:30
Show Full Article
Next Story