সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ছবি শেয়ার করে বলা হচ্ছে, দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাইতে গিয়ে এক বাড়িতে ঢুকে চুরি করায় এক জামায়াত নেত্রীকে ধরে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ১৫ জানুয়ারি 'Sheikh Jahidul Islam Juboraj' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে আলোচ্য ছবিটি পোস্ট করে বলা হয়, "রাজাকার জামাত শিবিরকে যেখানেই দেখবেন,থানায় দিবেন"। এছাড়াও, আলোচ্য ছবিটিতে লেখা থাকতে দেখা যায়, "দাঁড়িপাল্লার ভোট চাইতে গিয়ে বাড়িতে ঢুকে চুরি, জামায়াত নেত্রীকে ধরে পুলিশে দিল এলাকাবাসী।"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। আলোচ্য ছবির নারীকে গত ১০ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে বরিশাল থেকে আটক করা হয়।
আলোচ্য ছবিটি সম্পর্কে জানতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যমে ছবিটি সম্পর্কে আলোচ্য তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আলোচ্য ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে ছবিটির উপরে অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের লোগো দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোরের ওয়েবসাইটে গত ১০ জানুয়ারি "বরিশালে পরীক্ষা হলে নারীর কাছে মিলল মোবাইল" শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ছবিটির মত একটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে বরিশালে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। এর আগে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত নারী বরিশাল মহানগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকার বাসিন্দা বাবুল আক্তারের মেয়ে লুনা (৩১)। কোতোয়ালি মডেল থানার মো. আল মামুন-উল ইসলাম জানান, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে লুনার গতিবিধি সন্দেহজনক হলে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।"। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। গত ১০ জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অভিযোগে আটক নারীর ছবি শেয়ার করে তাকে জামায়াত নেত্রী বলে প্রচার করা হচ্ছে।
সুতরাং, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আটক নারীর ছবি শেয়ার করে তাকে জামায়াত নেত্রী বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




