সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে জাতিসংঘের কর্মকর্তার প্রতিবেদন উপস্থাপনের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করা মামলার মধ্যে দুটি মামলার রায় শেখ হাসিনার পক্ষে এসেছে এবং বাকিগুলো চলমান আছে। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২০ নভেম্বর ‘মুক্তিযুদ্ধ আমার অহংকার’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ! ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করা মামলার মধ্যে ২টি মামলার রায় শেখ হাসিনার পক্ষে এসেছে- বাকিগুলো চলমান রয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টে ট্রাইবুনালের যে রায় ঘোষণা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এসবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত দ্রুত ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি ভূলকার তুর্ক।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দায়ের করা মামলা রায় নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তার প্রতিবেদন উপস্থাপনের নয়; বরং এটি চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারিতে জুলাই আন্দোলন সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন উপস্থাপনের ভিডিও।
ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ককে বক্তব্য প্রদান করছেন। ফলকার টুর্কের পেছনে জাতিসংঘের লোগো দেখা যায়। ভিডিওতে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার ব্যবস্থা, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
আলোচ্য তথ্যের ভিত্তিতে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “OHCHR - Press Conference: Fact-finding report on Bangladesh protests” শিরোনামে ‘THE INFORMICA’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ৫২ মিনিট ১০ সেকেন্ড দীর্ঘ ভিডিও প্রতিবেদনের ২২ মিনিট ১৩ সেকেন্ড থেকে ২২ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড; ১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ১৫ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডের সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে ভাইরাল ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটি দেখুন--
পুরো ভিডিওতে ফলকার টুর্ক’কে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
যদিও ৫২ মিনিটের ভিডিওতে টুর্ককে কোথাও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বা ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে চলমান মামলা নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি।
এছাড়া, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “Bangladesh: UN report finds brutal, systematic repression of protests, calls for justice for serious rights violations” শিরোনামে ‘জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর)’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। যেখানে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘন, খুন, গুম ইত্যাদি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সম্পূর্ণ তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তার প্রতিবেদন উপস্থাপনের নয়। বরং এটি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর ওএইচসিএইচআর’র তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন উপস্থাপনের ভিডিও।
সুতরাং জুলাই আন্দোলনে মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে ওএইচসিএইচআর’র তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন ভিডিও দিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এবং শেখ হাসিনার পক্ষে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তার প্রতিবেদন উপস্থাপন বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




