ছাত্রলীগ করায় নয় বরং চুরির অভিযোগে ভিডিওর যুবককে নির্যাতন করা হয়
বুম বাংলাদেশ দেখেছে, কুমিল্লায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের সময়ে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মোল্লা পিয়াল মাহামুদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ২৯ মার্চ 'Rk Rajjer Raja' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "মনে রেখো বাংলাদেশ😡 কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মোল্লা পিয়াল মাহামুদকে কিভাবে নি'র্মম ভাবে নি'র্যাতন চালানো হচ্ছে 😡 এর হিসেব বুঝে নেয়া হবে খুব শীঘ্রই ✊ আসছি ✊"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওতে দৃশ্যমান যুবক ছাত্রলীগ করার কারণে নয় বরং কুমিল্লা সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন কালীরবাজার ইউনিয়নের মনসাসন গ্রামের একটি মসজিদে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং এলাকাবাসীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
আলোচ্য ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে গত ২৮ মার্চ দৈনিক পত্রিকা ডেইলি স্টারের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ফেসবুক পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "কুমিল্লায় দড়ি দিয়ে বেঁধে দুই যুবককে স্টানগান দিয়ে নির্যাতন, কী ঘটেছিল? কুমিল্লায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে কুমিল্লার কালীরবাজার ইউনিয়নের মনসাসন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করার সময় ওই ২ যুবককে আটক করে এলাকাবাসী। আটকের পর নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে"। ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
আরো সার্চ করে ডেইলি স্টারের অনলাইন ভার্সনে গত ২৭ মার্চ "চোর সন্দেহে ২ যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন" শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে আলোচ্য ভিডিওটির মত কয়েকটি ছবি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "কুমিল্লায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন কালীরবাজার ইউনিয়নের মনসাসন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মসজিদের ব্যাটারি চুরির চেষ্টা করার সময় ওই ২ যুবককে আটক করে এলাকাবাসী। আটকের পর নির্যাতনের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ২ যুবককে একটি পিলারের সঙ্গে বেঁধে স্টানগান দিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হচ্ছে। আর তাদের ঘিরে রেখেছে স্থানীয় জনগণ। গ্রামবাসীরা জানায়, তাদের একজনের নাম নাঈম (৩০)। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।" স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও,ডেইলি স্টারের ইউটিউব চ্যানেল এবং সমকালের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য জানা যায়।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওতে দৃশ্যমান যুবক ছাত্রলীগ করার কারণে নয় বরং কুমিল্লা সদর উপজেলার কোতোয়ালি থানাধীন কালীরবাজার ইউনিয়নের মনসাসন গ্রামের একটি মসজিদে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন এবং এলাকাবাসীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
সুতরাং ভিন্ন ঘটনায় নির্যাতনের শিকার যুবককে নির্যাতনের ভিডিও শেয়ার করে ছাত্রলীগ করার কারণে নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে প্রচার করা হচ্ছে যা বিভ্রান্তিকর।




