সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া দিল গ্রামবাসী। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২৫ নভেম্বর ‘বিচিত্রা নিউজ’ নামক একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “সীতাকুণ্ডে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের ধাওয়া দিলেন গ্রামবাসী! চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নে কৃষিজমি ভরাট করতে গিয়ে গ্রামবাসীর বাধার মুখে পালিয়ে যান জামায়াত নেতা জসিম উদ্দিন ও কমিশনার রেহান উদ্দিন। সোমবার দুপুরে সমুদ্র থেকে বালু তুলে প্রায় ১০০ একর কৃষি জমি ভরাটের চেষ্টা করলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শতাধিক মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্থানীয়রা জানান, প্যাসিফিক জিন্সের এমডি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীরের কেনা জমি ভরাটে জামায়াত নেতারা ড্রেজার বসাতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে পালান। এ সময় কয়েকজন আহত হন। কৃষকদের অভিযোগ, শীতকালীন সবজি থাকা জমিতে কোনো নোটিশ ছাড়াই বালু ভরাটের চেষ্টা করা হয়। জেলা জামায়াত জানায়, দল এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নয় এবং কেউ দলীয় পরিচয় ব্যবহার করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীতাকুণ্ড থানার ওসি বলেন, কৃষকদের বাধার খবর পাওয়া গেছে, তবে কেউ অভিযোগ করেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বালু উত্তোলন ও জমি ভরাটের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বালু উত্তোলন করতে গিয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে জামায়াত নেতাদের গ্রামবাসীর ধাওয়া দেয়ার ঘটনার নয় বরং এটি গত ৮ নভেম্বর খেয়াঘাটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জেরে নরসিংদীর চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দু’পক্ষের টেঁটাযুদ্ধের ঘটনার ভিডিও।
ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “নরসিংদীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দু'পক্ষের টেঁটাযুদ্ধ, আহত ১৫” শিরোনামে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘যমুনা টেলিভিশন’ এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। গত ৮ নভেম্বর প্রকাশিত ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। ভিডিওটি দেখুন--
আলোচ্য তথ্যের ভিত্তিতে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “নরসিংদী মাধবদীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষে টেঁটাযুদ্ধ” শিরোনামে আরেকটি সম্প্রচারমাধ্যম ‘একাত্তর টেলিভিশনের’ ইউটিউব চ্যানেলে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, নরসিংদীর চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জের ধরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি সীতাকুণ্ডে জামায়াত নেতাদের গ্রামবাসীর ধাওয়া দেওয়ার ঘটনার নয়। বরং এটি নরসিংদীতে ভিন্ন একটি ঘটনায় টেঁটা সংঘর্ষের ভিডিও।
সুতরাং নরসিংদীতে ভিন্ন একটি ঘটনায় টেঁটা সংঘর্ষের ভিডিও দিয়ে সীতাকুণ্ডে জামায়াত নেতাদের গ্রামবাসীর ধাওয়া দেওয়ার দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




