সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম যমুনা টেলিভিশনের লোগো যুক্ত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে, জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সাথে করা সব চুক্তি বহাল থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
গত ১৩ জানুয়ারি 'দুরন্ত নিউজ - duranta news' নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। যেখানে উল্লেখ্য করা হয়, "আমরা ক্ষমতায় আসলে আওয়ামী লীগের সময় ভারতের সাথে যত চুক্তি আছে সব বহাল থাকবে: ডাঃ শফিকুর রহমান।" নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য ফটোকার্ডটি নকল। বেসরকারি সম্প্রচার মাধ্যম যমুনা টেলিভিশন নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে আলোচ্য ফটোকার্ডটি তাদের বানানো নয় বলে জানিয়েছে।
কি-ওয়ার্ড ধরে সার্চ করে আলোচ্য দাবির প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিবেদন যমুনা টেলিভিশনের ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচ্য ফটোকার্ডে উল্লিখিত জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সাথে করা সব চুক্তি বহাল থাকবে বলে ডা. শফিকুর রহমানের এমন মন্তব্য-সম্পর্কিত কোনো তথ্য ভিন্ন কোনো গণমাধ্যমেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে “আগামী নির্বাচনে মা-বোনেরা জামায়াতকে বেছে নেবে” শিরোনামে ‘যমুনা টিভি’র ফেসবুক পেজে গত ১২ জানুয়ারি একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডের সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। যেখানে যমুনা টিভির লোগো এবং জামায়াত আমিরের ছবির মিল রয়েছে। যদিও, উভয় শিরোনামের ভিন্নতা দেখা যায়। এছাড়াও যমুনা টিভির ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে ফেসবুকে ভাইরাল ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের মিল পাওয়া যায়নি। পোস্টটি দেখুন--
ফটোকার্ডের ব্যাপারে জানতে চাইলে যমুনা টেলিভিশনের নিউ মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক রুবেল মাহমুদ বুম বাংলাদেশকে বলেন, আলোচ্য ফটোকার্ডটি ভুয়া। এটি যমুনা টেলিভিশনের নয়।
অর্থাৎ যমুনা টেলিভিশনের এর লোগো ব্যবহার করে জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভারতের সাথে করা সব চুক্তি বহাল থাকবে বলে ডা. শফিকুর রহমানের এমন মন্তব্য-সম্পর্কিত নকল ফটোকার্ড প্রচার করা হচ্ছে। যমুনা টেলিভিশন এমন কোনো খবর কিংবা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি।
সুতরাং যমুনা টেলিভিশনের লোগো ব্যবহার করে বা সূত্র দিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




