সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে অস্ত্র উদ্ধারের একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের ছাত্রদলের সভাপতির রুম থেকে উদ্ধারকৃত পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রহ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ১২ জানুয়ারি ‘মোহাম্মদ সত্যের বন্ধু’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় নবাব আব্দুল লতিফ হলের ছাত্রদলের সভাপতি রুম থেকে উদ্ধারকৃত পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রহ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের ছাত্রদলের সভাপতির রুম থেকে সেনাবাহিনী কর্তৃক পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের নয়। বরং এটি ২০২৪ সালের আগস্টে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের পুরোনো ঘটনার।
ভাইরাল ভিডিওটির কি ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘টপ নিউজ’ এর ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, মুন্সিগঞ্জ টঙ্গীবাড়ী থানার লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত হস্তান্তর। ভিডিওটি দেখুন--
আলোচ্য তথ্যের সূত্র ধরে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “মুন্সীগঞ্জে লুট হওয়া অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার, পুলিশের কাছে হস্তান্তর” শিরোনামে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর অস্ত্রের মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জে সদর থানা ও ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয় থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জেলা সার্কিট হাউজে উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র সরঞ্জাম পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী। উদ্ধারকৃত অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে ছিলো রাইফেল, পিস্তল, শর্টগানসহ মোট বিভিন্ন ধরনের ১৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩ হাজার ৯৩৯ রাউন্ড গোলাবারুদ। এছাড়াও উদ্ধার করা হয় লক্ষাধিক নগদ অর্থ, পুলিশের পোশাক সামগ্রী। স্ক্রিনশট দেখুন--
পাশাপাশি, কি ওয়ার্ড সার্চ করে “মুন্সীগঞ্জে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, পুলিশে হস্তান্তর” শিরোনামে ‘যুগান্তর’ এর ওয়েবসাইটে আরো একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জে সদর থানা ও ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয় থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ সুপার মো. আসলাম খানের কাছে হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের মোহাম্মদ খালেদ হোসেন। রোববার সকালে সার্কিট হাউসে উদ্ধার হওয়া এসব অস্ত্র সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি ২০২৪ সালের আগস্টে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের পুরোনো ঘটনার; বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের ছাত্রদলের সভাপতির রুম থেকে সেনাবাহিনী কর্তৃক পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের নয়।
সুতরাং অস্ত্র উদ্ধারের ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ভিডিও দিয়ে রাবিতে ছাত্রদল সভাপতির রুম থেকে উদ্ধারের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




