সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে বলা হচ্ছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল এবং শিবিরের সমর্থকদের ভিতরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। এরকম কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে।
গত ৮ জানুয়ারি 'বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে' নামে একটি ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করে বলা হয়, "জকসু নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মাঝরাতে ছাত্রদল বনাম শিবিরের মধ্যে তুমুল টি টুয়েন্টি ম্যাচ চলমান.......!! এক মায়ের পেটের দুই ভাই চলুক চলতে থাকুক কুত্তায় কুত্তায় কামড়াকামড়ি /"। ফেসবুক পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য পোস্টের দাবিটি সঠিক নয়। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
আলোচ্য ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলক্ষেত সংলগ্ন ফটক গণতন্ত্র ও মুক্তি তোরণের মত একটি তোরণ দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ভিডিওটি থেকে কি-ফ্রেম কেটে নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি 'Tanvir Rhaman Tusar' নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট থেকে শেয়ার করা আলোচ্য ভিডিওটির মত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা থাকতে দেখা যায়, "শুরু হয়ে গেছে t20 ✌️ মুখোমুখি অবস্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজ। ইট পাটকেল নিক্ষেপ চলছে। যেকোনো মুহূর্তে সংঘর্ষ হতে পারে। যাই হোক দুই পক্ষের জন্যই শুভকামনা।"। নিচে ফেসবুক পোস্টটি দেখুন--
আরো সার্চ করে একই দাবিসহ আরো ফেসবুক পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায় এখানে, এখানে ও এখানে।
পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে দৈনিক পত্রিকা প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে সার্চ করে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি "সাত কলেজ ও ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ ছড়িয়েছে নিউ মার্কেট এলাকায়" শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া নিউ মার্কেটের সামনের সড়ক এলাকায় ছড়িয়েছে। রোববার রাত ১১টার পর নীলক্ষেত মোড় এলাকায় দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও ধাওয়ার মুখে পিছু হটে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা ঢাকা কলেজের সামনে চলে আসেন। পরে আবার তাঁরা সংগঠিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। রাত ১টার সময়ও নিউ মার্কেটের সামনের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম–পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে এসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত সাত কলেজের কয়েক শ শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর থেকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন। তাঁরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে আসেন। তাঁরা নীলক্ষেত মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে কয়েক শ শিক্ষার্থী বেরিয়ে এসে তাঁদের ধাওয়া দেন। এতে নীলক্ষেত মোড় থেকে কিছুটা সরে যান সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা আবার একজোট হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন।"। স্ক্রিনশট দেখুন--
এছাড়াও, ওইদিনের সংঘর্ষের ব্যাপারে একই তথ্যসহ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ডেইলি স্টার বাংলা এবং যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদ থেকে।
অর্থাৎ, আলোচ্য পোস্টের ভিডিওটি সাম্প্রতিক হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে আলোচ্য ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
সুতরাং এক বছর আগের ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে সম্প্রতি জকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে যা বিভ্রান্তিকর।




