সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে ধসে অস্ত্রসহ দুই ব্যক্তির আটকের ছবি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, র্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ আটককৃত ব্যক্তিরা জামায়াত ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের কর্মী। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
গত ২৩ নভেম্বর ‘গুলশানারা বেগম পুতুল’ নামক একটি আইডি থেকে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “দেখেন ভাই জামাত-শিবিরের কাছে কি পরিমান অস্ত্র জামাত-শিবিরের কর্মীদের কাছে যদি এত পরিমান অস্ত্র থাকে তাহলে এবার চিন্তা করেন জামাতের সিনিয়ার নেতাদের কাছে কি পরিমাণ অস্ত্র থাকতে পারে, আমি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই আমাদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় যত জামাত-শিবিরের কর্মী নেতা আছে প্রত্যেকের বাড়ি ঘর তলাশী করা হোক দেখবেন কি পরিমাণে অস্ত্র পাওয়া যায়।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ছবিটি অস্ত্রসহ জামায়াত এবং শিবির কর্মী আটক হওয়ার নয়। বরং এটি গত ২০২৩ সালে র্যাবের অভিযানে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) সংগঠনের দুইজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের ছবি।
ভাইরাল ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “Two ARSA commanders held with firearms” শিরোনামে ‘পার্বত্য নিউজ’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে ফেসবুকে আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, র্যাবের অভিযানে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-র দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন ডিবিএফআই কর্মকর্তাকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার বলে জানা গেছে। র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব–১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু সালাম চৌধুরী। স্ক্রিনশট দেখুন--
রিভার্স ইমেজ সার্চ করে “সহযোগীসহ গ্রেপ্তার আরসার ‘টর্চার সেলের’ প্রধান” শিরোনামে অনলাইন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘নিউজ বাংলা’ এর ওয়েবসাইটে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবিগুলোর সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়। যেখানে বলা হয়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের গহীন পাহাড়ে এবার ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির’ (আরসা) টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে র্যাব-১৫। এ সময় আরসার ওলামা বডির শীর্ষ কমান্ডার টর্চার সেলের প্রধান মো. ওসমান ওরফে সালমান মুরব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার তথ্যের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা হয় টর্চার সেলের অপর সদস্য মো. ইউনুসকে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ছবিটি অস্ত্রসহ জামায়াত ও শিবির কর্মীদের গ্রেফতার হওয়ার নয়। বরং এটি ২০২৩ সালে র্যাবের অভিযানে আরসা সংগঠনের দুইজন সদস্যকে গ্রেপ্তারের ছবি।
সুতরাং অস্ত্রসহ আরসা সদস্যের গ্রেফতারের ছবি দিয়ে জামায়াত ও শিবির কর্মীদের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




