সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য বলে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। যেখানে শফিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, আওয়ামীলীগকে সরিয়ে ভুল করেছি। বিএনপির চেয়েও আওয়ামী লীগ ভালো ছিল। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
গত ২ অক্টোবর 'Imran Sordar' নামক একটি একাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ্য করা হয়, “হায় হায় কয় কি তাহলে অবশেষে রাজাকারের বাচ্চা বুঝতেই পারিছে যে ওরা যেটা করেছে সেটা ভুল করেছে।” পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য ভিডিওটি বাস্তব নয়। এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ভয়েস ক্লোনিং প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ডিপফেক ভিডিও।
ভিডিওটিতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, "শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে আমরা বড় ভুল করেছি, আজ সেটা অকপটে স্বীকার করছি। সময়ের বাস্তবতায় বুঝতে পারছি, বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগই অনেক ভালো ছিল। আপনাকে সরিয়ে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেটাই আজ আমার কাছে সবচেয়ে বড় ভুল।”
তবে আলোচ্য তথ্যের ব্যাপারে কি ওয়ার্ড সার্চ করে এই সংক্রান্ত কোনো খবর বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বক্তার ঠোঁট নাড়ার গতির সাথে উচ্চারিত কথা ও শব্দের মিল নেই। কণ্ঠটি ডা. শফিকুর রহমানের মনে হলেও উচ্চারণে স্বাভাবিক আবেগ, কথা বলার জড়তা বা স্বাভাবিক টোন নেই। বক্তার মুখাবয়বের নড়াচড়া মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক হয়ে যায় এবং থুতনি বা ঠোঁটের আশেপাশের ফ্রেম একটু ঝাপসা দেখায়।
সাধারণত, নির্দিষ্ট ব্যক্তির আগে থেকে রেকর্ড করা আসল কণ্ঠের অডিও দিয়ে এআই মডেল ElevenLabs, Ressemble AI এর মতো সহজলভ্য টুলস-এ যেকোনো লিখিত টেক্সট দিলে এআই সেই ব্যক্তির হুবহু কণ্ঠে কথা বানিয়ে দেয়। এরপর Wav2Lip, HeyGen, SadTalker, D-ID-এর মতো লিপ-সিঙ্কিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ব্যক্তির একটি স্থির ছবি বা পুরোনো কোনো ভিডিওর ওপর এআই দিয়ে তৈরি অডিওটি বসিয়ে দিয়ে এ ধরণের ভিডিও তৈরি করা হয়।
পরবর্তীতে, ভিডিওটি এআই-ডিপফেক ডিটেকশন টুলের মাধ্যমে চেক করা হয়। এআই-ডিপফেক অডিও যাচাইয়ের টুল Resemble AI দিয়ে ভিডিও থেকে অডিওটি ফাইলকে আলাদা করে টুলে চেক করা হলে টুলটি অডিওটিকে ফেক অডিও হিসেবে ফলাফল দিয়েছে। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ ভাইরাল ভিডিওটি এআই দ্বারা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, ফেসবুকে এআই দ্বারা সম্পাদিত ভিডিও ডা. শফিকুর রহমানের বাস্তব বক্তব্যের ভিডিও বলে প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।




