সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, এটি বাংলাদেশের বহুতল ভবনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য। এরকম কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে এবং এখানে।
গত ২৬ নভেম্বর ‘Amora Harbona’ নামক একটি আইডি থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে দেশ।” নিচে পোস্টটির স্ক্রিনশট দেখুন--
ফ্যাক্ট চেক:
বুম বাংলাদেশ যাচাই করে দেখেছে, আলোচ্য দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে আলোচ্য ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো বহুতল ভবনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নয় বরং এটি গত ২৬ নভেম্বর হংকংয়ের একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ভিডিও।
ভাইরাল ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওটিতে বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘সময় টেলিভিশনে’র লোগো যুক্ত আছে।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কি ওয়ার্ড সার্চ করে “হংকংয়ের আবাসিক ভবনে ভয়াবহ আগুন" শিরোনামে ‘সময় টেলিভিশনের’ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি রেকর্ডেড লাইভ ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। গত ২৬ নভেম্বর প্রচারিত ভিডিওর সঙ্গে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওর মিল পাওয়া যায়। স্ক্রিনশট দেখুন--
আলোচ্য তথ্যের ভিত্তিতে কি ওয়ার্ড সার্চ করে “Police arrest construction firm bosses over Hong Kong fire” শিরোনামে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা ‘রয়টার্স’ এর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হংকং পুলিশ বৃহস্পতিবার শহরের প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৮৩ জনের মৃত্যু এবং আরও অনেকে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ম্যানস্লটার (অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড) সন্দেহে একটি নির্মাণ কোম্পানির মালিকদের গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার ভোরের আগেই দমকলকর্মীরা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুনকে বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। আগুনটি তাই পোর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াং ফুক কোর্ট হাউজিং কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। আবাসন কমপ্লেক্সটিতে সংস্কারের কাজ চলছিল এবং পুরো ভবনটি বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিং ও সবুজ জাল দিয়ে মোড়ানো ছিল। স্ক্রিনশট দেখুন--
অর্থাৎ আলোচ্য ভিডিওটি বাংলাদেশে অগ্নিকান্ডের দৃশ্য নয়। বরং এটি হংকংয়ের একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দৃশ্য।
সুতরাং হংকংয়ের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও দিয়ে বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হচ্ছে ফেসবুকে, যা বিভ্রান্তিকর।




